উদাসীনতার তীরে নিহত ৫০

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সমাজে মানুষ যখন মূল্যহীন হয়ে পড়ে, দুর্ঘটনাও নিকট সঙ্গী হবেÑএটাই স্বাভাবিক। সমাজে অনেক সময় বলতে শোনা যায়, ‘নুনের চেয়ে খুনের দাম কম’। এই বাক্যটির মাঝেও সত্যের ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়। পাওয়া যায় সামাজের চিত্র। সমাজে জবাবদিহিতার মানের সঙ্গে সামাজিক চিত্রের বহিঃপ্রকাশও চলে সমান্তরালভাবে। ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটি সেই বহিঃপ্রকাশেরই একটি নমুনা মাত্র।

গত সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের ইউএস-বাংলার যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে অর্ধশত মানুষের মৃত্যুকে নিশ্চিত করেছে, সেই বিমানটি ১৭ বছরের পুরনো। ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সৈয়দপুর রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়া বিমানটিই গত সোমবার নেপালে দুর্ঘটনায় পড়ে। বোমবাইডার ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি রানওয়ের বদলে এয়ারপোর্টের পাশে একটি ফুটবল মাঠে আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে সেটিতে আগুন ধরে যায়। বিমানে যাত্রী ছিল ৬৭ জন, যাত্রীর বাইরে চারজন ক্রু। এর মাঝে বাংলাদেশের ৩২ জন, নেপালের ৩৩, চীনের এক ও মালদ্বীপের একজন। এ ছাড়া ক্রু চারজনও বাংলাদেশি। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫০।

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ বলছে, ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ মডেলের এ বিমান কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তার প্রকৃত কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে নেপাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, রানওয়েতে অবতরণের সময় বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। বিমানটি দক্ষিণ দিক দিয়ে নামার কথা থাকলেও এটি উত্তর দিক দিয়ে অবতরণের চেষ্টা করে। তার মতে, কারিগরি ত্রুটির কারণে এমনটি ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এদিকে বাংলাদেশের বিমান বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, শুধু বেসরকারিই নয়, সরকারি ও বেসরকারি বিমান ব্যবস্থাপনায় চরম বিশৃঙ্খলা বহু দিনের। অনেকটা ক্রনিকে উপনীত হওয়ার পর্যায়ে। এখানে যে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে, বিশেষ করে বেসরকারি বিমান খাতকে নজরদারি বা তদারকি করার মতো কেউ নেই। থাকলেও তা না থাকার মতো। সরকারের পক্ষ থেকে থাকাটা যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। আর এই নজরদারি না থাকার কারণেই এরা লাগামহীন ঘোড়ার মতো চলতে অভ্যস্ত। জবাবদিহিতা না থাকায় এই উদাসীনতা!

বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন, এয়ারলাইনসগুলো বিমান রক্ষণাবেক্ষণে খরচ করতে চায় না। পুরনো বিমান দিয়ে কোনোমতে যাত্রী বহন করে। এসব বেসরকারি বিমান কোম্পানির বিমান মেরামত বা সংস্কারের জন্য বিমানবন্দরে কোনো হ্যাঙ্গার নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদেশে বিমান মেরামত করতে হয়। এমনকি উড্ডয়নের আগে ছোটখাটো সমস্যা দেখা দিলেও বিমানবন্দরে তারা তা মেরামত করতে পারেন না। এই যদি বাস্তবতা হয়, তাহলে গত সোমবারের দুর্ঘটনায় যারা মারা গেলেন এবং আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তাদের দায় কে নেবে? আমরা মনে করি, এ দায় কাউকে না কাউকে নিতে হবে এবং দায় গ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারকেই এদের মুখে লাগাম পরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকার তা করবেনÑএটাই আমাদের বিশ্বাস।

 

 

"