প্রেমময় দিন

ভালোবাসাতে যে বিজ্ঞান

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

ইয়াসমীন রীমা

বিজ্ঞান হচ্ছে মস্তিষ্ক নিঃসৃত রাসায়নিক, যা রক্তস্রোতে প্রবহমান হয়ে শারীরিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। হার্ট বা হৃদয়ে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। হৃদয় পোড়ায়। কিন্তু এ মন পোড়ানো। ফিশার বলেছেন, প্রাকৃতিকভাবে প্যাশন বা আসক্তির স্থায়িত্বকাল বড়জোর চার বছরের। আদিমকালে এই আসক্তির স্থায়িত্বকাল ছিল সন্তানের শৈশব পার করা পর্যন্ত। অর্থাৎ সন্তানটি নিজে খাবার সংগ্রহ করতে পারা পর্যন্ত। এরপর তারা অন্য প্রাণীর মতোই নতুন সঙ্গী বেছে নিত। শুরু হতো নতুন জীবন ও সংসার। পরে সমাজ সংসার ও সংস্কার মানুষের মনে শিকল পরিয়ে দেয়। এই বিবর্তনের মধ্য দিয়ে সঙ্গী বাছাই ও সঙ্গদানের সময়কালের বিবর্তন ঘটে। ১৯৮৮ সালের কোনো এক দিন। ফিশার নিউইয়র্কের সাবওয়েতে কোথাও যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল জাতিসংঘের পরিসংখ্যান-সংক্রান্ত একটি বই। এতে ১৯৪৭ সাল থেকে কালের ৬২টি দেশের বিয়েবিচ্ছেদের পরিসংখ্যান ছিল। তিনি দেখতে পান ৬২টি দেশে ৬২ রকমের সাংস্কৃতিক আবহ থাকলেও একটি জায়গায় আশ্চর্য মিল রয়েছে। সব জায়গায়ই বিয়ের চতুর্থ বছরে গিয়ে বিচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন দম্পতিরা এবং এ সময়ই বিয়েবিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অপেক্ষাকৃত কম বয়সীদের মধ্যে বিয়েবন্ধনের সময়কাল বেশি দীর্ঘ। অর্থাৎ কোনো দম্পতি তাদের প্রথম সন্তানের জন্ম দিলেন। দ্বিতীয় সন্তানটি জন্ম নেওয়ার পর তাদের দাম্পত্য জীবন আরো চার বছরের জন্য প্রলম্বিত হলো। এভাবেই প্রলম্বিত হয় দাম্পত্য জীবনের কাল অপেক্ষাকৃত তরুণ দম্পতিদের মধ্যে। মেরিলিন মনরো অভিনীত ক্লাসিক বা ধ্রুপদী ছবি ‘দিন সেভেন ইয়ার ইচ’-এর কথাটি মনে করিয়ে দেয় এ পরিসংখ্যান থেকে। ফিশার পুরো বিষয়টিকে বলেছেন প্রকৃতি নির্ধারিত। গবেষণায় দেখ গেছে, শতকরা পাঁচভাগ স্তন্যপায়ী তাদের জোড়ের বেলায় শক্তিশালী বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। তবে ফিশার তার গবেষণায় দেখিয়েছেন, মানবসমাজ অন্যসব স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় কিছুটা ভিন্ন প্রকৃতির। আদিম বা প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই মানুষের প্রবণতা এককগামী বা একসঙ্গে একজন সঙ্গী বাছাই করার।

নিনোটচকাতে গ্রেটা গার্বো তার নায়ক মেলিভন ডগলাসকে বলছেন, ‘খড়াব রং ধ ৎড়সধহঃরপ ফবংরমহধঃরড়হ ভড়ৎ ধ সড়ংঃ ড়ৎফরহধৎু নরড়ষড়মরপধষ ড়ৎ ংযধষষ বি ংধু পযবসরপধষ? চৎড়পবংং ধষড়ঃ ড়ভ হড়হংবহংব রং ঃধষশবফ ধহফ ৎিরঃঃবহ ধনড়ঁঃ রঃ’ তাদের অনুভূতিতে এমন একটি শিহরণ বিচ্ছুরিত হয় যেন তারা ভেসে যাচ্ছে। গবেষণায় প্রমাণ মিলেছে। চার চোখের মিলন, হাতের মৃদু পরশ অথবা শরীরের ঘ্রাণ মস্তিষ্কে সৃষ্ট করে বন্যার স্রোতধারা। এই স্রোতধারা রক্তপ্রবাহের সঙ্গে মিশে শিরা-উপশিরার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেহে। সৃষ্টি হয় এক অদম্য অনুভূতি ও শিহরণের। এরপর শারীরিকভাবে যা ঘটে তার কিছু হয় দৃশ্যমান। আর কিছু থাকে অদৃশ্য। পরিচিত ও দৃশ্যমান ফলাফল হচ্ছেÑত্বক, বিশেষ করে মুখম-ল রক্তিম হয়ে ওঠা হাতের তালু ঘেমে যাওয়া ও নিঃশ্বাস ভারী হয়ে ওঠা। এসবই ভালোবাসা অনুভব করার লক্ষণ। সর্বোপরি এক ধরনের সার্বিক উচ্ছ্বাস ভালোবাসা থাকে। এ যেন কিছুটা অবাক ভাব কিংবা পুরো বিষয়টি লুকানোর জন্য লুকোচুরি খেলা নিজের মধ্যে নিজের অজান্তে। আসলে যে রাসায়নিক বা কেমিক্যাল বিচ্ছুরিত হয় তার আবেশ ঘটে শরীরে, মনে ও মস্তিষ্কে। এই রাসায়নিকগুলো হচ্ছে এস্ফেটামাইন গোত্রের। এগুলোর মধ্যে থাকে ডোপামাইন নর এপিনেফ্রাইন এবং বিশেষভাবে থাকে ‘ফেনাইলই থাইল্যামিন (পিইএ)। প্রেমের বা ভালোবাসার রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন কোল পোর্টার ও অ্যান্টনি ওয়ালশ।’ আর অ্যান্টনি বলেন, ‘ভালোবাসা হচ্ছে প্রাকৃতিভাবেই পুলকিত হওয়ার এবং কারার বিষয়। অচেনা-অজানা কাউকে দেখলে শিহরণ তোলে, যা এক ধরনের বোকার হাসি হাসায় এবং মুখম-ল রক্তিমাভা উদ্ভাসিত করে। তিনি এরও বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফেনাইল ইথাইল্যামাইনের নিঃসরণ মাত্রা সব সময়ই যে উচ্চমাত্রায় থাকবে তা নয়। আর এটাই বোধ হয় আবেগজনিত (প্যাসিয়োনেট) রোমান্টিক ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী হওয়ার মূল কারণ। রাসায়নিকই প্রাথমিকভাবে কোনো প্রাণীর শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণে যতটা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে সময়ের ব্যবধানে তা করে না। অর্থাৎ শরীর প্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। তখন মাত্রাটা বেশি লাগে। এটা যেকোনো এস্ফেটামাইনের বেলায়ও প্রযোজ্য। এ জন্যই ভালোবাসার বেলায়ও সময়ের ব্যবধানে বিশেষ ঝুঁকুনির জন্য ক্রমাগত বেশি থেকে বেশি এস্ফেটামাইন জাতীয় পদার্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এর নিঃসরণেরও একটা সীমা থাকে। দেখা গেছে, ভালোবাসা শুরুর বা প্রেমে পড়ার দুই থেকে তিন বছর পর যে পরিমাণ এস্ফেটামাইন বা ফেনাইলইথাইল্যামিন শরীরে প্রয়োজন অনভূতি চাঙা করার জন্য তা নিঃসরণ করার ক্ষমতা শরীরের নেই। নিউইয়র্ক স্টেট সাইক্রিয়াট্রিক ইনস্টিটিউটের ডা. মাইকেল লিবউইজ বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন ‘এট্রাকশন জাংকিস’ বলে। আকর্ষণ হারিয়ে যায় বলে এসব মানুষ তখন অন্য কাউকে খুঁজতে থাকে। এরা একপর্যায়ে ভালোবাসার জন্য এতটাই কাতর হয়ে পড়ে যে, তারা পাগলের মতো সঙ্গী বাছাইয়ে একজন থেকে আরেকজনের দিকে ছুটতে থাকে। অনেক রোমান্স বা রোমান্টিক সম্পর্কে বছরের পর বছর টিকে থাকে। তাদের সংখ্যাও কম নয়। আর তা হচ্ছে মস্তিষ্কের এন্ডোরফিনসে উৎপাদিত এক ধরনের রাসায়নিক। সঙ্গীর ক্রমাগত উপস্থিতিতে মস্তিষ্কে ধারাবাহিকভাবে এটি উৎপন্ন হতে থাকে। তবে উত্তেজক এস্ফেটামাইনের চেয়ে এর প্রকৃতি ভিন্ন। এটি বরং উত্তেজনা প্রমশন করে। আশ্চর্য এক সুখানুভূতি সৃষ্টি করে। প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য ঠিক যেন ব্যথানাশক। এগুলো প্রেমিক-প্রেমিকার মনে এক ধরনের নিরাপত্তা শাস্তি ও সুস্থিতি এনে দেয়। ফিশার একে মাদকতার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, এ জন্যই সম্ভবত কেউ তার প্রেমাস্পদকে হারালে অথবা প্রেমাস্পদ মারা গেলে সে ভীত হয়ে পড়ে। এক ধরনের ভীতি তাকে গ্রাস করে ফেলে। এ এমন এক বেদনা যা শুধু অনুভব করা যায়। প্রকাশ করা যায় না। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী মার্ক গোলস্টেন ভালোবাসাকে আবার দুটো শ্রেণিতে সন্নিবেশিত করেছেন-

আর্লি লাভ বা প্রাথমিক ভালোবাসা ও ম্যাচিউর লাভ বা স্থিত ভালোবাসা। আসলেই এ দুয়ের প্রভেদ হচ্ছে একটি আবেগের এবং অন্যটি স্নেহ বা করুণাজাত আকর্ষণের।

তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে সবচেয়ে রহস্যের ভালোবাসা হচ্ছে হোমোসেক্সুয়াল ভালোবাসা। পুরুষ পুরুষের প্রতি এবং নারী নারীর প্রতি যে আকর্ষণ অনুভব করে এর রাসানিক প্রকৃতি আজও তাদের কাছে রহস্যবৃত হয়ে আছে। এখানে বিবর্তন বিবর্ধন বা সন্তান উৎপাদনের কোনো বিষয় নেই। কিন্তু তার পরও লেসবিয়ানদের মধ্যে রোমান্টিক ভালোবাসার স্ফুরণ রয়েছে অস্বীকার করা যায় না। গবেষকদের মতবাদ এ ধরনের প্রকৃতি মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে হয়তো ভ্রƒণ সৃষ্টির সময়েই জৈব-রাসায়নিক বিশৃঙ্খলার কারণে। তবে যে কারণেই ঘটুক তাদের মধ্যে ভালোবাসার কমতি থাকে না। আর তা যে ওই রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ারই বহিঃপ্রকাশ তা ধরে নেওয়া যায়। জনি ম্যাথিসের কবিতার লাইন ‘অ্যা সার্টেইন স্মাইল অ্যা সার্টেইন ফেস’। হ্যাঁ একটি বিশেষ হাসি একটি বিশেষ মুখ। বুন্ধদেব বসুর ‘গা ঘেঁষে মেয়েরা চলে, রেখে যায় গায়ের সুবাস’। এসবই তো মানুষের একগামী মনোভাবের প্রকাশ। অর্থাৎ মানুষ সে নর হোক অথবা নারী বিপরীত লিঙ্গের একজনের প্রতিই স্বাভাবিকভাবে আকর্ষণ অনুভব করে। কিন্তু অনেকের সঙ্গে ভালোবাসার প্যাশন ও কম্প্যাশন অর্থাৎ প্রেমাবেগ ও স্নেহের কারণ নির্ণয় করেছেন। এ দুয়ের জন্য দায়ী করেছেন মস্তিষ্ক নিঃসৃত রাসায়নিককে। কিন্তু নর তার মিলনে সর্বোত্তম উর্বরতার দিকেই নজর দেয়। হিসাবে সমাজতাত্ত্বিকরা এর কারণ উল্লেখ করেছেন নরের নারীর প্রতি আকর্ষণের এক স্বাভাবিক প্রবণতার কথা। এ জন্যই পুরুষের ঝোঁক থাকে ১৭ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীর দিকে। কারণ এ সময়টিই সন্তান জন্মদান ও প্রতিপালনের জন্য দায়ী জীবনের উত্তম সময়। প্রেমে পড়ার বেলায় নারী ও পুরুষের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। যেমন পুরুষ নারীর তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত প্রেমে পড়ে। মেয়েরা প্রেমের সিদ্ধান্ত গ্রহণে বেশ সময় নেয়। সামাজিক কারণেই এমনটি ঘটে। বায়োলজিক্যাল কারণে তার প্রয়োজন অনেক জটিল। আর এই জটিলতা নিরসনে চারদিক ভাবতেই তার অনেকটা সময় নেওয়া প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে মূলত ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। সমাজতত্ত্ববিদ মিলস বলেন, ‘নারীর পছন্দের বেলায় বয়স একটি বিষয়, কিন্তু কোনোক্রমেই তা প্রধান বিষয় নয়। বরং নারীর কাছে বড় বিবেচ্য হয় ভবিষ্যতের নিরাপত্তা সন্তানের পিতৃত্ব সম্পদের মালিকানা সামাজিক পদমর্যাদা ইত্যাদি। কিন্তু এত কিছুর পরও কথা থেকে যায়। এক নারীর চলতিপথের হাসি এক পুরুষের মনে দোলা দেয় কেন। অথবা উল্টোভাবে পুরুষের প্রতি নারী আকর্ষণ অনুভব করে কেন। আবার সে যখন চলে যায় তখন মনে বেদনা অনুভূত হয় কেন। আবার যখন অন্য বেদনা অনুভূত হয় কেন। আবার যখন অন্য কোনো নারী বা পুরুষ আসে তখন বেদনা উবে গিয়ে পুলকিত হয় কেন। ওয়ালশ বলেন, ঘধঃঁৎব যধং রিৎবফ ঁং ভড়ৎ ড়হব ংঢ়বপরধষ ঢ়বৎংড়হং অবশ্যই এই বন্ধন বলতে তিনি রোমান্টিক বন্ধনের কথা বলেছেন। ওয়ালশ জোর দিয়ে বলেছেন, এক বিশেষ ব্যক্তির কথা। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তার মতে একসঙ্গে দুজনকে ভালোবাসতে পারে না। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন বিশারদ জন মানি বলেছেন, ‘লাভ ম্যাপ’-এর কথা। এই লাভ ম্যাপ কী? প্রতিটি নারী-পুরুষেই তার মনের গহনে তার জন্য আদর্শ একটি সঙ্গী সঙ্গিনীর ছবি আঁকে অথবা লালন করে। নারী ও পুুরুষ নির্বিশেষে মানুষ তার শৈশব থেকে অভিজ্ঞতার আলোকে এই মানচিত্র আঁকে। মস্তিষ্কের এই মানচিত্রে ধারণ করে সুখকর ও বিরক্তিকর সব ধরনের অভিজ্ঞতা। তার থেকেই সে ছক কেটে নেয় তার ভবিষ্যতের দয়িত-দয়িতার। মা আমাদের মাথায় কেমন করে হাত বুলাতো। শৈশবের দেখা পুলিশ কিংবা ডাক্তারের স্টেথোস্কোপ? শৈশবের খেলার সাথি থেকে কৈশোরকালের বিচিত্র সব অভিজ্ঞতা ও তথ্য মস্তিষ্কের অঙ্কিত হয়ে যায়। মস্তিষ্কে আঁকা সব ছবির প্রতিফলন ঘটাবে তাও নয়। কিন্তু তার পরও মস্তিষ্কের আঁকা মানচিত্রের সঙ্গে কারো আদল যদি খানিকটাও মিলে যায় সেটাই হচ্ছে ‘ম্যাচ’ হওয়া। এই ম্যাচ বা মিলে যাওয়াই হচ্ছে সংযুক্তি। এই সংযুক্তির মধ্য দিয়েই স্ফুলিঙ্গ খেলে যায়। এরই নাম ‘লাভ’ বা ভালোবাসা। সব সঙ্গী যে ঠিক এক ধরনের হবে অথবা বর্তমানেরটি যে আগেরটির মতো হবে তা নয়। কিন্তু মস্তিষ্কের আঁকা মানচিত্র সময়ে সময়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির মানুষকে পছন্দ করতে পারে। আর এ জন্য একসময় প্রেমে ব্যর্থ হয়েও নতুন আশায় থাকে। এ হলো বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভালোবাসার স্বরূপ সন্ধান।

মানুষ উচ্চতম অনুভূতিসম্পন্ন ভাবুক এবং আদর্শদীপ্ত। সর্বকালেই মানুষকে বিভিন্ন চাপের মধ্যেই কাটাতে হয়েছে। আজকের মানুষের সামনে প্রযুক্তির চাপ কর্ম তৎপরতার চাপ, প্রভুত্বের চাপ, নিজেকে ক্রমাগত সৃষ্টিশীল রাখার চাপ ছাড়াও বহু চাপ, যা প্রতি মুহূর্তে তাকে নানা সমস্যার মধ্যে রেখেছে বলেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশেও তার প্রভাব পড়ছে। সাধারণ মানুষ তার সুকুমার বৃত্তিগুলোর চর্চা করার সময়ই পাচ্ছে না। এখন সংস্কৃতি হতে হতে সব দিক দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের মধ্যে একা হয়ে এই দুঃসহ অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতেও এই চাপ ভিন্নরূপে ছিল সংসারে সমাজে। সুতরাং ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে ভালোমন্দ দুই মিশেছিলÑকাম ও প্রেমে। কাম ও প্রেমকে অবিচ্ছেদ্য মেনে নিয়ে চলার পথ থেকে সরে আসার কোনো উপায়ই নেই। ভালোবাসার ক্ষেত্রে নতুন-পুরোনোর সংস্কার কাটিয়ে উঠতে না পারলে সমস্যার গভীরে প্রবেশ করা তো যাবেই না বরং বিষয়টি গুরুত্ব হারাবে। তাই তো তিলোত্তমা মজুমদার বলেন, এই বস্তুতান্ত্রিক জীবন এই যুদ্ধাস্ত্র বিনিময়েরকালে কেরিয়ার ও পেশাদারিত্বের নির্মাণের যুগ, এই মৃত্যু ও সন্ত্রাসের দিন-কোনোটাই যখন ভালোবাসাকে হত্যা করতে পারেনি-তখন আরো সব ভয়াবহতা ও ভালোবাসার হনন সম্ভব করতে পারবে না। ভালোবাসার হাত ধরেই মানুষ এগিয়ে যাবে আরো।’

লেখক : সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট

"