বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৪

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

দেশে জনসংখ্যার পাশাপাশি কর্মহীন মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে স্বাভাবিক হারে। এতে করে বেকারের ভারে নুয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক ২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের হার বাংলাদেশেই বেশি। এখন এটাই বাস্তবতা। ২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান এ হার কমিয়ে আনতে পারলেও বাংলাদেশ তা পারেনি। ভারত তার অবস্থানকে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশ তা পারেনি। ২০১৩ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি কিংবা আগামী বছরে এই হার কমার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে বেকারের সর্বোচ্চ হারের দিক থেকে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে। তবে আফগানিস্তান ও মালদ্বীপে বেকার মানুষের হার বাংলাদেশের চাইতে বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার কবল থেকে বেরিয়ে আসার মুখে কর্মবাজারে নতুন করে কর্মসংস্থান প্রশ্নে টানাটানির মাত্রাটাও বেশ কিছুটা বেড়েছে। বাড়ছে বেকারের সংখ্যাও। বৈশ্বিক বেকারত্বের হার স্থিতিশীল হলেও শোভন কাজের এখনো ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতি এখনো পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে আইএলও প্রতিবেদনে এ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশসমূহে আগামী দিনগুলোতে বেশি হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই আশাব্যঞ্জক। কিন্তু আমরা!

আইএলওর তথ্য মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বেকারত্বের হার ছিল ২০১০ সালে। এরপর থেকে তা বাড়ছে। সে সময় বেকারত্বের হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। যা ২০১৬ সালে এসে হয়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। সংখ্যাগত দিকে ২০১০ সালে বাংলাদেশে বেকার ছিল ২০ লাখ। ২০১২ সালে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২৪ লাখে। ২০১৬ সালে তা আরো বেড়ে হয় ২৮ লাখ। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ৩০ লাখে গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আইএলও। পাশাপাশি ২০১৮ সালে বৈশ্বিক বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে এবং বিশ্বে বেকার মানুষের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৯ কোটি ২০ লাখ।

প্রথম বিশ্বে এ সমস্যা সমাধানের জন্য বেকারভাতা আছে। কিন্তু আমাদের তা নেই। স্বাভাবিক কারণে প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাহলে উপায়? উপায় একটিই। সরকারকে কঠোর হাতে অর্থপাচার প্রতিহত করে দেশে শিল্প বিপ্লব ঘটাতে হবে। এর বাইরে কোনো সমাধানই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে মনে করার বাস্তব কোনো কারণ নেই বলেই আমরা বিশ্বাস করি। আমরা মনে করি, সরকার নিশ্চয়ই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

"