হিমঘরে হত্যা রহস্য...

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

এতকাল শুনেছি, লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে যাচ্ছে সব। এখন আর লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কথা তেমন একটা শোনা যায় না। শোনা যাচ্ছে, হিমঘরে হিমায়িত করে রাখার কথা। ডিজিটাল যুগ বলে কথা! এখানে ফাইল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়লে বলা যাবে না, ভাগ্যের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। এ ছাড়াও খোলা আছে আরো একটি পথ। যে পথের নাম গুম। গুম শব্দটি আকারে ছোট হলেও ওজনের দিক থেকে এর গুরুত্ব অনেক। শব্দটি এ দেশে এখন খুবই জনপ্রিয়। মানুষের মুখে মুখে, চায়ের টেবিলে সমধিক আলোচিত। এখন আর ফাইল নামক বস্তুটি লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে যায় না। গুম হয়ে যায়। চলে যায় গুমঘরে। আর এই গুমঘরকে সর্বগ্রাহ্য করার জন্য বলা হচ্ছে হিমঘর।

কবরও একপ্রকার ঘর বিশেষ। এ ঘর কতটা হিম, তা বলার ক্ষমতা আমাদের না থাকলেও সেখানে বসবাসকারীদের আছে। অভিজ্ঞতার ভান্ডার থেকে কেবল তারাই বলতে পারেন, এখানে হিম অথবা উষ্ণতার পরিমাণ কত। তবে হিমঘর অথবা কবরÑএ দুয়ের মধ্যে অদ্ভুত একটা যোগাযোগ এবং মিল খুঁজে পাওয়া যায়। একবার সেখানে প্রবেশ করলে বের হয়ে আসার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। আর সে কারণেই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বদান্যতায় গত পাঁচ বছরে হিমঘরে আশ্রয় নিয়েছে চাঞ্চল্যকর ১৫ হত্যা রহস্য। এসব হত্যাকান্ডের কারণ উদ্ঘাটন তো দূরের কথা, কোনো কূলকিনারাও করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৫টি হত্যাকান্ডই ঘটেছে বাড়ির ভেতরে। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্তের শুরুতে আমরা গুরুত্বের হাতছানি দেখতে পেলেও বাস্তবতা সব সময়ই এর বিপরীতে অবস্থান করছে। বাস্তবতা বলছে, এখনো এসব চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার কার্যক্রম আটকে আছে তদন্ত সংস্থার হিমঘরে (কেস ফাইলে)। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা হিমাঙ্কের অনেক নিচে নেমে গেছে। যেখান থেকে উঠে আসার ক্ষমতা অতি মানবের জন্যও অসম্ভব। তবে আমরা মনে করি, কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। যদি সততার সঙ্গে আমরা আমাদের কাজকে ত্বরান্বিত করি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সততার সঙ্গে আমরা আমাদের কাজ শুরু করব কবে! এ প্রশ্নের জবাব আমরা যেদিন খুঁজে পাব, সেদিনই হয়তো হিমঘর থেকে মৃত সব মানুষের আত্মারা বেরিয়ে এসে বলবে, ‘জয় সত্যের জয়’। আমরা সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম।

"