জঙ্গিবাদে ঝুঁকছেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

পাওয়া না পাওয়ার হিসাব যখন সীমাকে লঙ্ঘন করবে, তখনই শুরু হবে বিপত্তি। বিষয়টি সবসময় ও সবক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছেন উগ্রবাদে। প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষজনিত কারণে জমে থাকা ক্ষোভ তাদের নিয়ে যাচ্ছে জঙ্গিবাদের মতো কলুষিত জীবনের দিকে। দেশে অনেক ‘নিয়মকানুন’ বলবৎ থাকলেও তার কোনো সঠিক কার্যকারিতা নেই বলে মনে করছেন এসব বিপথগামী শিক্ষার্থী।

এটি একটি সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিফলনÑএমনটাই মনে করছেন দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তাদের মতে, এটি এক দিনে এ পর্যায়ে উঠে আসেনি। দীর্ঘ ৪৬ বছরের পথপরিক্রমায় আজ আমরা এখানে এসে উপস্থিত হয়েছি। যখন কোনো পরাধীন দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং সে দেশ যদি পুঁজিবাদী অর্থনীতি দ্বারা পরিচালিত হয়; তখন সেখানে কিছু অনৈতিক কর্মকা- ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এবং এ রকম অর্থনীতিতে এটাই স্বাভাবিক। আমরাও এর বাইরে যেতে পারিনি। ফলে নতুনভাবে এখানে যে পুঁজির উদ্ভব হয়েছে, তার অন্যতম উৎসই ছিল লুট। স্বাভাবিক কারণে এ পুঁজির চরিত্রও ছিল লুটেরা। সময়ের তালে তালে বেশির ভাগ দেশে এ পুঁজির চরিত্র পরিবর্তন হয়ে জাতীয় চরিত্রে রূপান্তর ঘটেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে আমরা তা করতে পারিনি। পারিনি বলেই আজ সর্বত্র লুট, ঘুষ আর দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন থেকে সরে এসে এমন এক দুঃখজনক পরিবেশ এবং পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছি।

যুগ বদলেছে। সময়ের সিঁড়ি বেয়ে আজ আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রবেশ করেছি। দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিও আমাদের বহুগুণে গতিশীল করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এসব বিপথগামী শিক্ষার্থীকে এ পথে চলতে বিশেষভাবে সহায়তা জুগিয়ে যাচ্ছে, একই সঙ্গে জঙ্গিদের ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলগুলো শিক্ষার্থীদের উগ্রপন্থার দিকে ধাবিত করছে। এসব শিক্ষার্থীর মাঝে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা তুলনামূলক বিচারে অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশি। আমরা মনে করি, লুটেরা পুঁজির দৌরাত্ম্যে সমাজে যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে; সেখান থেকে আসতে না পারলে এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসাটাও সম্ভব হবে না। বিপরীতে বলা যায়, সমস্যা আরো প্রকট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে। সুতরাং এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রাষ্ট্রের বণ্টন ব্যবস্থায় একটা মৌলিক পরিবর্তন আজ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। এমন একটি ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, যা দেশের প্রত্যেক নাগরিককে দেশপ্রেমিক হওয়ার উৎসাহ ও উদ্দীপনা জোগাবে।

 

"