ব্যয় বাড়ল জীবনযাত্রার

প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ল। খবরটি কখনো নতুন হতে পারল না। পৃথিবীর সর্বত্র একই ধারা। আমরাও তার ব্যতিক্রম নই। তবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের কিছুটা ব্যবধান আছে। অন্যান্য দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সমানুপাতিক হারে আয় বৃদ্ধিরও সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সরকারি ক্ষেত্রে আয় বাড়ার প্রবণতা থাকলেও বেসরকারি খাতে তা ভীষণভাবে অবহেলিত। আর বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ করা মানুষের সংখ্যাই বেশি এবং মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বেশিরভাগ মানুষের জীবনযাত্রার মানও গাণিতিক নিয়মেই পড়ে যেতে বাধ্য। এমন কোনো দিন নেই, কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ছে না। আর এই পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কমছে মানুষের দাম। গেল বছর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তথ্যটি ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)।

ক্যাব জানিয়েছে, রাজধানীর ১৫টি খুচরা বাজার ও বিভিন্ন সেবা সার্ভিসের মধ্য থেকে ১৪০টি খাদ্যপণ্য, ২২টি নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী ও ১৪টি সেবা সার্ভিসের তথ্য পর্যালোচনা করে তারা এ তথ্য উপস্থাপন করেছে। তাদের এ হিসাবের মধ্যে শিক্ষা, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয়কে পর্যালোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। মূলত ক্যাবের দেওয়া এ তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে অনেকের ভিন্নমত রয়েছে। ভিন্নমতাবলম্বীদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার হার আরো অনেক বেশি। তারা মনে করেন, রিজার্ভের পরিমাণ তুলনামূলক বিচারে অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে পড়ায় মুদ্রাস্ফীতির হার এবার ১০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু এ কারণেই সাধারণ মানুষকে প্রতিটি পণ্য শতকরা ১০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। একজন সাধারণ চাকরিজীবী মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় করলে শুধু মুদ্রাস্ফীতির কারণে তার মাসিক ঘাটতি দাঁড়ায় ১৫০০ টাকা। অর্থাৎ তার বেতন গিয়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার

৫০০-তে।

এ তো গেল একটি মোটা দাগের হিসাব। প্রকৃত চিত্র আরো হৃদয়বিদারক। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যয়বৃদ্ধির ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যয় কমানোর প্রশ্নে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। দেশে যে উন্নয়ন হচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ কথাও সত্য, এর কোনো সুফল নিম্ন আয়ের মানুষ পাচ্ছে না। আয় বেড়েছে গুটিকয় মানুষের, ব্যয় সবার। এ রকম চিত্র দেখার আশায় মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ জীবন উৎসর্গ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনেনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের এ চিন্তার বিপরীতে চিন্তা করতে শিখিয়েছে-আমাদের প্রত্যাশাও সেখানেই।

"