সুস্বাগতম ২০১৮

প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

স্বাগত ইংরেজি নববর্ষ। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে যে প্রথম সূর্য তার উজ্জ্বল হাসি আর আলো নিয়ে যাত্রা শুরু করে, সেই উদিত সূর্য ৩১ ডিসেম্বরের শেষ বিকেলে ডুবে যাওয়ার মধ্য দিয়েই বিদায় নিয়েছে। বিগত বছরেও পাওয়া না-পাওয়ার আনন্দ-বেদনা ভুলে আমরা আশাবাদী নতুন বছরের নতুন স্বপ্নে। পুরাতনকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানানোর এই যে রেওয়াজ, তা নতুন কিছু নয়। নববর্ষকে বরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে চির নবীনের। যেখানে স্বপ্ন আর পরিকল্পনার রঙিন বেলুন ওড়ানো হয়েছে বর্ণিল আয়োজনে। পেছনের সব গ্লানি ও ব্যথা-বেদনাকে মুছে নতুনভাবে প্রত্যেকটি মানুষ প্রস্তুতি নিয়েছে সৃষ্টির নব আনন্দে।

নববর্ষকে ঘিরে সব জাতিগোষ্ঠীর মাঝে আন্দোলিত হয়েছে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস। বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের বাংলা নববর্ষকে নিয়ে যে সার্বজনীন উৎসবের আমেজ রয়েছে, তার সমপরিমাণ আবেগ অনুভূতি ইংরেজি নববর্ষে না থাকলেও ইংরেজি নতুন বছরকে ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়ে থাকে, যা বিগত বছরগুলোর দিকে তাকালেই বোঝা যায়। কিন্তু সরকার এ বছর নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে ৩১ ডিসেম্বর বর্ষবিদায়ের সব অনুষ্ঠান বাতিল ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশের সমুদ্র উপকূলীয় পর্যটন এলাকায় গতকালের রাতটি যেখানে দিনের রূপ পাওয়ার কথা ছিল তাও হলো না। রাত রাতই থেকে গেল। ফলে পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের সমূহ ক্ষতিই হয়েছে বলে ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও ‘সেইফটি ফার্স্ট’ নিরাপত্তাই আগে এই চিন্তা থেকে সরকারের উদ্যোগের প্রতি সাধারণের নিশ্চিত সমর্থন ছিল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

আমরা জানি, বিগত বছরটি আমাদের জন্য ছিল নানা ঘাত-প্রতিঘাত রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পাওয়া না-পাওয়া আশা-নিরাশার দোলাচল আর স্বপ্নভঙ্গ, নতুন স্বপ্ন ও আনন্দ-বেদনায় মোড়ানো। সেই জায়গায় ২০১৮ ইংরেজি খ্রিস্টাব্দ নতুন আশা আকাক্সক্ষায় সারা বিশ্বের প্রতিটি মানুষ শান্তির পতাকাকে সমুন্নত করে মানবতার জয়গানে মুখরিত হবে- এমনটাই প্রত্যাশা। নতুন বছরে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত শপথ হোক আমাদের সবার। মানবকুলে জন্ম নিয়েও আমরা যেন মানুষ হতে পারিনি। যদিও মানুষ হওয়ার কাজটিই পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ। নতুন বছরের শুরু থেকেই এ কাজটিই আমরা করতে চাই-এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

"