‘শিক্ষার্থী’ সংসদ কেন নয়?

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাস উৎসবমুখর। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ডাকসু কেন ‘ছাত্র’ সংসদ, এটা কেন ‘শিক্ষার্থী’ বা ‘ছাত্রছাত্রী’ সংসদ নয়?

ইংরেজিতে ডাকসুর পুরো নাম ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।’ যার বাংলা করা হয়েছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।’ একইভাবে টিএসসির (টিচার-স্টুডেন্ট সেন্টার) বাংলা করা হয়েছে ‘ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র।’ কেন এটার নাম ‘শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেন্দ্র’ কিংবা ‘ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক কেন্দ্র’ নয়? এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘৭০ বছর আগে যখন এটা এসেছে, তখন কিন্তু জেন্ডার ইস্যুটা এত বেশি ছিল না। তখন দেখেন রবীন্দ্রনাথও লিখেছেন ছেলেদের মহাভারত? বিষয়টা আসলে, ৭০ বছর পরে এসে নারী-পুরুষ ইস্যু সামনে এসেছে। ফলে এটা বাংলায় শিক্ষার্থী সংসদ হতেই পারে। আসলে ইংরেজিতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ ডাকসু মানে হচ্ছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন।’ কিন্তু আমরা বাংলায় যখন লিখছি, তখন ছাত্র লিখছি। এটা হয়ত আমরা পরিবর্তন করতে পারি। নতুন নেতৃত্বে যারা আসবেন তারা হয়ত ছাত্র বাদ দিয়ে শিক্ষার্থী সংসদ লেখার কাজটা করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও বলছেন, এটা ছাত্র সংসদ না রেখে ‘শিক্ষার্থী’ কিংবা ‘ছাত্রছাত্রী’ সংসদ হওয়া উচিত।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ইনতিশার স্বাক্ষর বলেন, ‘ইংরেজিতে তো ঠিকই ছিল। কিন্তু অনুবাদে গিয়ে বিষয়টা অন্য রকম হয়ে গেছে।’ কেন ইংরেজি ঠিক থাকলেও বাংলায় এমন হলো? জবাবে স্বাক্ষর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট যারা এটার অনুবাদ করেছেন তারা তখন রক্ষণশীল ছিলেন বা বিষয়টা ওভাবে দেখেননি। তাই ছাত্র সংসদ হয়ে গেছে। তখন হয়ত কেউ প্রতিবাদও করেনি। ফলে সেই যে ছাত্র দিয়ে শুরু, এখনো সেভাবেই চলছে।

ডাকসু যেভাবে ছাত্র সংসদ হয়েছে, একইভাবে টিএসসিও হয়ে গেছে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র। এখন সময় এসেছে, পরিস্থিতিও বদলে গেছে, ফলে অবশ্যই ডাকসু শিক্ষার্থী সংসদ ও টিএসসি শিক্ষার্থী-শিক্ষক কেন্দ্র হতে পারে।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ বলেন, এটা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে, তাই ছাত্র সংসদ বা ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র। তখন তো ছাত্র বলতে ছাত্রছাত্রী সবাইকেই বোঝাত। যেমন ধরেন উপেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর মহাভারত, সেটা তো ছেলেদের মহাভারত। আবার রমায়ন, ছেলেদের রামায়ন। আসলে সংখ্যায় পুরুষরা বেশি ছিল। পুরুষের প্রাধান্য বেশি ছিল তাই এভাবে চলে আসছে। তখন তো ছাত্রী বেশি ছিল না।

 

"