আধুনিকায়ন শিক্ষায় অন্যতম ডিআরএমসি

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২০, ০০:০০

ক্যাম্পাস ডেস্ক

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ (ডিআরএমসি) ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা উপকরণ ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে তাদের মধ্যে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ অগ্রগণ্য। এই কলেজে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য তিন বিভাগেই শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় হতে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দেশের অন্যতম বড় আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই কলেজ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্যাতিমান ব্যক্তির জন্ম দিয়েছে।

১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্থান সরকার ইংল্যান্ডের বিখ্যাত পাবলিক স্কুলের অনুরূপ বিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল স্থাপনের কাজ শুরু করেন। শেরে বাংলা নগরের পাশের মিরপুর রোডের উপর এক মনোরম পরিবেশে ৫০ একর জমির উপর এর স্থান নির্বাচন করা হয়। বিদ্যালয়ের ইমারত, খেলার মাঠ, ছাত্রদের হাউস (হোস্টেল), প্রশাসনিক ভবন, শিশু পার্ক, জিম্নেশিয়াম, মসজিদ, সুইমিংপুল, মিলনায়তন এবং অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক ও বিভিন্ন পদের কর্মচারিদের বাসস্থান ইত্যাদি তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে হাতে নেয়া হয়। ১৯৬২ সালে কেন্দ্রিয় সরকার প্রাদেশিক সরকারের নিকট বিদ্যালয়ের দায়িত্বভার হস্থান্তর করেন। বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য প্রাদেশিক সরকার একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোর্ড অব গভর্নর নিযুক্ত করেন এবং বিদ্যালয়টিকে স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দান করেন। ১৯৬৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকার পুনরায় বিদ্যালয়টির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু এর স্বায়ত্বশাসিত মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা হয়। এ সময় এ বিদ্যালয়কে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়। সর্বাধিনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালে শিক্ষা সচিবকে পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান নিজুক্ত করে এ প্রতিষ্ঠানের ‘বোর্ড অব গভর্ণরস’ গঠন করা হয়।

রাজধানী ঢাকা শহরের ক্রমবর্ধমান ভর্তি সংকট নিরসনে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ একটি স্বনামধন্য আবাসিক প্রতিষ্ঠান। তা সত্ত্বেও দ্বিতীয় শিফ্?ট চালু করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জাতির প্রতি তার কর্তব্যের হাত প্রসারিত করেছে। ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে শিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই শিফ্?ট চালু হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্রদের বসবাসের জন্য সর্বাধুনিক ছয়টি (ছোটদের জন্য ২টি এবং বড়দের জন্য ৪টি) পূর্ণাঙ্গ ছাত্রাবাস রয়েছে, যা হাউজ নামে পরিচিত। এগুলো হল ঃ জয়নুল আবেদীন হাউস, কুদরত-ই-খুদা হাউস, ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্? হাউস, লালন শাহ্? হাউস, নজরুল ইসলাম হাউস, ফজলুল হক হাউস।

কলেজের শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখা পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য মনে করা হয়। এ কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা বরাবরই রক্ষিত হয়ে আসছে।এ কলেজে ৩য় থেকে ১২শ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্রদের পাঠদান করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখায় শিক্ষার্জনের সুযোগ রয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় থাকায় ছাত্রদেরকে হাতে-কলমে যতœসহকারে পাঠদান করা হয়। পর্বশেষ পরীক্ষা ছাড়াও প্রতি পর্বে দুইটি করে শ্রেণী-পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। প্রাইমারি ও জুনিয়র সমাপনি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য ছাত্রদেরকে সুপরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি গ্রহণে সহায়তা করা হয়।

এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে দৈহিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে সহ-পাঠ্যক্রম কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হয়। এখানে আবাসিক ছাত্রদের জন্য প্রাতঃকালীন শরীর-চর্চা ও বৈকালিক খেলাধুলা বাধ্যতামূলক। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, ভলিবল, বাস্কেটবল নিয়মিত খেলা হয়। এছারা আন্তঃকক্ষ খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রয়েছে। ছাত্রদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনা উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বার্ষিক সাংস্কৃতিক সপ্তাহের আয়োজন করা হয়। এতে হামদ-নাত, ক্বেরাত, বক্তৃতা, বিতর্ক, আবৃতি, অভিনয়, কৌতুক, ছড়াগান, গল্প বলা, নাট্যানুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান, চিত্রাংকন ইত্যাদি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। ডাক টিকেট সংগ্রহ, চিত্রাংকন, ছবি তোলা, বাগান করা, মাটির কাজ, সঙ্গীত চর্চা, স্কাউটিং, নাট্যচর্চা, বিজ্ঞান ক্লাব, ব্যা- শিক্ষা, জুনিয়র ক্যাডেট কোর প্রভৃতি কার্যক্রমও এর আওতাভুক্ত। এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। ছাত্রদের চিকিৎসার জন্য কলেজ প্রঙ্গণে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। দুইজন অভিজ্ঞ এম.বি.বি.এস (শিশু বিশেষজ্ঞ) ডাক্তার এবং অভিজ্ঞ ফার্মাসিস্ট ছাত্রদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য সর্বদা নিয়োজিত আছেন। সাধারণ রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় টিকা দান ব্যবস্থা ইত্যাদি এখানেই সম্পন্ন করা হয়।কলেজে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার আছে। গ্রন্থাগারে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক এবং মাসিক পত্র-পত্রিকা ছাড়াও প্রায় বিশ হাজার বই আছে। গ্রন্থাগারকে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।

 

"

সর্বাধিক পঠিত