ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনাথন-১৯ হ্যাকাথন

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২০, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে বাংলাদেশে এই প্রথম অনলাইন প্ল্যাটফরমে আয়োজিত “করোনাথন-১৯” হ্যাকাথন অনুষ্ঠিত হয়। এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাটি গত ২ মে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জাব্বার। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী এ অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল পরিবারের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ নূরুজ্জামান এবং ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিমিডিয়া অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি বিভাগের প্রধান ও করোনাথন-১৯ এর আহ্বায়ক ড. শেখ মোহাম্মদ আল্যায়ার । অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএসডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক কে এম হাসান রিপন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তফা জাব্বার বলেন, করোনা পরিস্থিতি আমাদেরকে নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে. চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশ একসঙ্গে লকডাউন হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ইতিপূর্বে পৃথিবীতে ঘটেনি। তবে সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষ এ পর্যায়ে এসেছে তার মেধা ও প্রযুক্তিকে ব্যাবহার করে। এবারের সংকটও মানুষ তার অসীম মেধা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মোকাবিলা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এসময় মন্ত্রী ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান কারোনা হ্যাকাথনের মতো একটি সময়পোযোগী প্রতিযোগিতার আয়োজন করার জন্য। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, তোমরা এখনই করোনার ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার করে ফেলবে এমনটা মনে করি না। তবে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কী করে বড় বড় সমস্যার সমাধান করা যায় তার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় ঘটল। ভবিষ্যতে পৃথিবীতে আরও অনেক দুর্যোগ আসবে, মহামারি আসবে, তখন এই তরুণরা তাদের মেধা ও প্রযুক্তিকে যেন মানব সভ্যতা রক্ষার কাজে ব্যয় করে, মন্ত্রী সেই আহ্বান জানান। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার বলেন, করোনা সমস্যার সমাধান কী তা আমরা এখনো জানি না। পৃথিবীর সবাই এর সামাধান খুঁজছে। আমরা সেই সমাধান খোঁজার কর্মযজ্ঞে সারা পৃথিবীর তরুণদের সম্পৃক্ত করার একটা প্ল্যাটফরম তৈরি করেছি। এরই মধ্যে এই প্ল্যাটফরমে বিশ্বের ১২টি দেশ থেকে তরুণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার আরো বলেন, এই তরুণদের হাত ধরেই করোনা সমস্যার সমাধান আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এসময় তিনি এই হ্যাকাথন প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপকে মোকাবেলার জন্য চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্রযুক্তিবিদদেরও একটা দায়বদ্ধতা আছে ; আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি হতে পারে প্রযুক্তিবিদদের অন্যতম একটা হাতিয়ার। সে লক্ষ্যেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় “করোনাথন-১৯” হ্যাকাথনের আয়োজন, যেখানে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর তরুণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। এই তরুণরা ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তত্ত্বাবধানে করোনা মোকাবেলার প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উপায় উদ্ভাবন করবেন এবং বিজয়ীগণ পুরস্কার হিসেবে পাবেন ২৫ হাজার ইউএস ডলার। ভারত, পাকিস্তান, ইরান, তাইওয়ান, নাইজেরিয়া, জাপান, মেক্সিকো, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং স্বাগতিক বাংলাদেশ থেকে শতাধিক দল এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় দুই ক্যাটাগরিতে জুনিয়র ও সিনিয়র ক্যাটাগরি। স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জুনিয়র ক্যাটাগরি এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সিনিয়র ক্যাটাগরি। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি হওয়া অসংখ্য সমস্যার সমাধান শনাক্তকরণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলো যথা স্বাস্থ্য, খাদ্য, পুষ্টি ইত্যাদির সমাধান নির্ণয় করা, শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করা এবং বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উপায় উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন তাদের জ্ঞান এবং দক্ষতা কাজে লাগাতে পারে সে লক্ষ্যে তাদের যথাযথ প্ল্যাটফরম প্রদান করাই এই ‘করোনাথন-১৯’ এর উদ্দেশ্য। এই হ্যাকাথনে ঘরে বসেই অংশগ্রহণ করেন স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া সারা বিশ্বের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের জমা দেয়া প্রকল্প বা সমাধানগুলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমাদৃত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

 

"