আড্ডায় মুখরিত চিরযৌবনা ইবির ডায়না চত্বর

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

রাকিব হোসেন, ইবি

সমগ্র জীবনে সবচেয়ে আনন্দঘন আড্ডার দেখা মেলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। আড্ডা থেকে শুরু হয় বন্ধুত্ব, শুরু হয় স্বপ্ন দেখা, শুরু হয় পথচলা। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আড্ডাবাজদের জন্য অন্যতম আদর্শ একটি জায়গা হিসেবে পরিচিত এই ডায়না চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে ডায়না চত্বর অবস্থিত। এই চত্বরে বিশালত্ব নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুবিশাল আলবেজিয়াছ গাছ ও গহনার মতো চত্বরটাকে ঘিরে আছে সোনালু গাছ। যেন প্রকৃতিকে সাজিয়ে এক নতুন রূপে।

উলেখ্য নর প্রিন্সেস ডায়না যে বছর মারা যান, তখন থেকেই চত্বরটির নাম হয়েছে ডায়না চত্বর। সারা দিন ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনসহ সকল প্যারাময় শব্দগুচ্ছকে সরিয়ে নিয়ে মনকে চাঙ্গা করে তোলার জন্যে অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন শব্দের নাম আড্ডা। সব সময় ক্লাস পরীক্ষা আর লেখাপড়া নিয়ে ব্যাস্ত থাকতে ভালো লাগে না শিক্ষার্থীদের। এসবের ফাঁকে শিক্ষার্থীরা চায় আড্ডাবাজি করতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ডায়না চত্বর মুখরিত থাকে শিক্ষার্থীদের আড্ডায়। অনেক গুলো আড্ডার জায়গা থাকলেও এটাই যেন তাদের কাছে আড্ডার প্রাণকেন্দ্র আড্ডায় হাসিতে মুখর ডায়না চত্বর।

এখানে আড্ডায় ব্যস্ত থাকে শিক্ষার্থীরা। কেউ বন্ধুদের জন্মদিন পালন করছে আবার কেউ গিটার হাতে গানের ভুবনে মগ্ন। কেউ দলবদ্ধ হয়ে সেলফি তুলছে আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে খোশ গল্পে আর খুনসুটিতে মেতে ওঠেছে। খুনসুটিতে থাকে ঝগড়া রাগ অভিমান কিন্তু পরক্ষণেই সব ভুলে যায়। তাই তো কবিতার ছন্দে বলতে হয়, ‘খুনসুটি আড্ডাবাজি কতশত হয়, মুখের কথা হাবিজাবি, মনে কিগো রয়।’ অনেকেই গোল হয়ে নিজেদের স্কুল-কলেজ জীবনের স্মৃতিচারণ করছে। কেউ এককভাবে আবার কেউ দলবদ্ধভাবে সময় পার করছে। ক্লাসের ফাঁকে গাড়ির অপেক্ষায় আড্ডা জমে ডায়না চত্বরে। তার প্রাঙ্গণ সব সময় মুখরিত থাকে গল্প, গান আর আড্ডার ফুলঝুড়িতে।

বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অনেকটা সময় কাটে এ ডায়না চত্বরে। কত শত গল্পের ফ্রেম এখান থেকে শুরু হয় তা বলে শেষ করা যাবে না। এই ক্যাম্পাসে অধ্যায়নরত বলে আমাদের কাছে মর্যাদা বেশি না। তবে যারা ক্যাম্পাসের পুরোনো শিক্ষার্থী তারা হয়তো খুব মিস করে আড্ডাটাকে এবং এ আড্ডার চত্বরটাকে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণ ফিরে পায় এই চত্বর। ক্লাসের ফাঁকে অথবা ক্লাস শেষ করেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে যায়। তা কখন শেষ হবে বলা দুষ্কর। সারা দিন ক্যাম্পাসে থাকার সুবাদে ক্লাস বাদে বেশির ভাগ সময় কাটে এই ডায়না চত্বরে। ডায়না চত্বরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীরাই আড্ডা দেন, তা কিন্তু নয়। সাবেক শিক্ষার্থীরাও সময় পেলে চলে আসেন তাদের স্মৃতিচারণ জোড়ানো, প্রিয় স্থানটিতে। ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাচ্ছে আবার আসে নবীন কিন্তু ইবির ডায়না চত্বরের আড্ডা চিরযৌবনা হয়ে থাকবে। তাই কফি হাউসের আড্ডার গানের মতো করে বলতে হয়Ñ কতজন এলো গেল, কতজনই আসবে, ডায়না চত্বরই শুধু থেকে যায় সমহিমায়, তার চিরচেনা রূপে হাজারো স্মৃতির নীরব সাক্ষী হয়ে।

 

"