শুধু পড়ালেখাতেই এগিয়ে নয় খেলাধুলাতেও অনন্য ডিআইইউ

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

মো. মোফাখখারুল ইসলাম (মারুফ)

শুধু পড়ালেখাতেই এগিয়ে নয়, বরং খেলাধুলাতেও অনন্য, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা আর তার প্রমাণ মিলল অতিসম্প্রতি শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্প-২০১৯ এ। চারটি স্বর্ণপদক, ছয়টি রৌপ্যপদক ও চারটি ব্রঞ্জ পদক অর্জন করে দেশের ৬৫ ট সরকারি- বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করে নিজেদের সেই যোগ্যতার কথাই প্রমাণ করলেন তারা। এছাড়া এই টুর্নামেন্টের ‘ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড’টিও অর্জন করে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সেই শুরু থেকেই বাংলাদেশের ক্রীড়া জগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ অলিম্পিকে তৃতীয় স্থান, ২০১১ সালের সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন গেমসে (সাফ গেমসে) স্বর্ণপদক জয় করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

আর ক্রীড়া ক্ষেত্রে এসব বিস্ময়কর সাফল্যই বলে দিচ্ছে, তারা যাবেন বহুদূর। তেমন প্রত্যয়ও ঝড়ে পড়ল খেলোয়াড় শিক্ষার্থীদের মুখে। ‘এ বছর আমরা চারটি স্বর্ণপদক পেয়েছি। সামনে বছর এই সংখ্যা আরো বাড়বে।’ বলছিলেন ব্যাডমিন্টন একক ও দ্বৈত দুই ক্যাটাগরিতেই স্বর্ণপদক বিজয়ী আল আমিন জুমার। শুধু একক নয়, ব্যাডমিন্টন দ্বৈত ক্যাটাগরিতেও স্বর্ণপদক এবং মিশ্র দ্বৈতে (পুরুষ-মহিলা) রৌপ্যপদক জিতেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দ্বৈত ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদকজয়ী আল আমিন জুমারের সঙ্গী আরেক শিক্ষার্থী মুক্তার হোসেন বলেন, ‘ডাবল ক্রাউন জয়ের ইতিহাস খুব বিরল। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমরাই প্রথম ব্যাডমিন্টনে দ্বিমুকুট অর্জন করেছি।’

এছাড়া সাইক্লিং ও টেবিল টেনিসে স্বর্ণপদক জয় করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী হাফিজ উদ্দিন ও মুফরাদুল খায়ের হামজা। দুজনেই হাসিমুখে বললেন, এ অর্জন ধরে রাখতে হবে। অন্যান্য টুর্নামেন্টেও স্বর্ণপদক জয়ের ব্যাপারে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। প্রতিজ্ঞা ও সংকল্পের কথা শোনা গেল রৌপ্য পদকজয়ী অর্পা চাকমা, মিজানুর রহমান, সানোয়ার হোসাইন ও মরিয়ম আক্তারের কণ্ঠে। ‘সামনের টুর্নামেন্টে যে কোনো মূল্যে স্বর্ণপদক জিততে চাই। বলছিলেন ব্যাডমিন্টন মিশ্র ক্যাটাগরিতে রৌপ্যজয়ী অর্পা চাকমা। তবে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে রৌপ্যজয়ী মিজানুরের ভাষ্য অবশ্য অন্যরকম। তিনি বলছিলেন, এই টুর্নামেন্ট থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। নিজের ভুুলগুলো ভালোভাবে শনাক্ত করতে পেরেছি। এখন আপ্রাণ চেষ্টা করব ভুলগুলো শোধরানোর। অপরদিকে লং জাম্পে রৌপ্যজয়ী সানোয়ার হোসাইনের মতে, আর একটু চেষ্টা করলে হয়ত স্বর্ণ পদকটাই অর্জন করতে পারতাম! যা হোক, প্র্যাকটিসটা আরও বাড়িয়ে দিতে হবে। সামনের টার্গেট স্বর্ণপদক। আর হার্ডলসে রৌপ্যজয়ী মরিয়মের ভাষ্য, মেয়েরা খেলাধুলা করবে এটা আমাদের সমাজ এখনো সহজভাবে দেখে না। কিন্তু এ ব্যাপারে আমার বিশ্ববিদ্যালয় অবিশ্বাস্য রকমের সহযোগিতা করেছে। বিশেষ করে ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাকটর স্যারের অনুপ্রেরণা আর দিকনির্দেশনার কারণেই আমি এতদূর আসতে পেরেছি। এছাড়াও রৌপ্য পদক জিতেছে ডিআইইউ ক্রিকেট দল ও ভলিবল দল। শিক্ষকদের সহযোগিতা আর প্রসংশার কথা শোনা গেল ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মুফরাদুল খায়ের হামজা, রেজওয়ানুর আজাদ আশিক ও মিজানুর রহমানের কণ্ঠেও। আশিক বলছিলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাধুলার সব ধরনের উপকরণ রয়েছে। শিক্ষকরাও অনুপ্রাণিত করেন খেলাধুলায়। আমাদের রয়েছে দক্ষ ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাকটরসহ বিভিন্ন বিষেয়ের কোচ যারা আমাদের হাতেকলমে শিখিয়ে প্রস্তুত করেছেন। আশিক ব্রোঞ্জ জিতেছেন টেবিল টেনিস দ্বৈত ক্যাটাগরিতে। তার সঙ্গী ছিলেন হামজা। আর মিজানুর ব্রোঞ্জ জিতেছেন ১০০ মিটার স্প্রিন্টে। এছাড়া ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে ডিআইইউ ফুটবল দল ও ভলিবল দল। শিক্ষার্থীদের এই চোখ ধাঁধানো সাফল্য সম্পর্কে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাকটর সাদ আন্দালিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় তো শুধু একাডেমিক পড়াশোনার জায়গা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভেতরের সব ধরনের প্রতিভাকে বিকশিত করার জায়গা। যেসব ছেলেমেয়ে খেলাধুলায় ভালো তাদের সঠিকভাবে পরিচর্যা করার চেষ্টা করছি আমরা। তার ফলও হাতেনাতে পাচ্ছি। সাদ বলেন, এই ছেলেমেয়েরা অসম্ভব পরিশ্রমী। তারা নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে। আমরা শুধু গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করেছি। গত মাসের ২৯ তারিখে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্প-২০১৯ এ সারা দেশের ৬৫টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অর্জন করেছে চতুর্থ অবস্থান। বিশ্ববিদ্যালটি মোট ১৩টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে চারটি স্বর্ণপদক, ছয়টি সিলাভার পদক ও চারটি ব্রঞ্জ পদক অর্জন করেছে। গত ২৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে এ টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পদকবিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

"