শেহাবি শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে পথ দেখাবে

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

সদ্য প্রতিষ্ঠিত শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেহাবি) শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে শেখ হাসিনার স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশের পথ দেখাবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু। ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথমবর্ষে ভর্তি হওয়া শেহাবি শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে ২ মার্চ শনিবার তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি অস্থায়ী ক্যাম্পাস নেত্রকোনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) এ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু বলেন, জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় হবে বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসবে জ্ঞান অর্জনের জন্য, আমাদের প্রত্যাশা এটাই।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন। আমরা যতদিন বেঁচে থাকবো দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিনটিতে আমরা সাক্ষী ছিলাম। আমার বিশ্বাস আজকের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পথ দেখাবে। শিক্ষার্থীদের সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে। কারণ তারা দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠলেই শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। যোগ করেন খসরু। বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও আলোকিত এবং বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য তিনি কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে বাজেটও বেশি বরাদ্দ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। তাই এখানকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই সংশ্লিষ্টদের বিশ্ববিদ্যালয়টি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার বলেন, আমরা জানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে যারা পড়ে তারা একটা ঐতিহ্যও ধারণ করে। তোমরা যে গল্প করবে সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও করতে পারবেন না। ‘তোমরা নতুন ঐতিহ্য সৃষ্টি করবে। কারণ তোমরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের ছাত্র। তোমরাই সেটার সূত্রপাত করে দেবে।’

পরিপূর্ণ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত এ শিক্ষাবিদ বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বাংলা, ইংরেজি ও অর্থনীতি বিষয় খোলা হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে কোনো শিক্ষাই খন্ডিত হতে পারে না। বাংলা শিখবে সে ইংরেজি জানবে না আর ইংরেজি শিখলে অর্থনীতির কিছুই জানবে না; তা হতে পারে না। এটা শিক্ষার অপূর্ণতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা হবে একটা পরিপূর্ণ শিক্ষা। বিশেষজ্ঞ অবশ্যই হবে, কিন্তু কোনো বিষয়ে বিশেষ অজ্ঞ থাকলে চলবে না। বিশেষজ্ঞ হবে বিশেষ বিষয়ে কিন্তু সর্ব বিষয়ে অজ্ঞ থাকবে না।’

সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান বলেন, শুরু দিকে আমাদের হয়তো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সহযোগী শক্তি এখানকার সবাই। সবাই আমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আশাকরি ভবিষ্যতেও এটা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, বিজ্ঞান আমাদের কাছে সুন্দরের কথা তুলে ধরে। আর সাহিত্য তা করে তোলে সুন্দরতম। সুতরাং, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা বিজ্ঞানমনস্ক হবে। অবশ্যই শতভাগ বিজ্ঞানমনস্ক। সে যে বিষয়েই পড়ুক। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক দিন দেশকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাবে বলেও মনে করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সাজ্জাদুল হাসান, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক মঈন উল ইসলাম, পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী, শেহাবির সিন্ডিকেট সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মাহবুব আহসান ও কাজী জাহেদুল হাসান, নেত্রকোনা পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম খান, নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও রেড ক্রিসেন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু, নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. এ কে এম সাদিকুল আজম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী নাসির উদ্দিন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

 

"