ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ মেলা

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রাবণ প্রকাশনীর উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। ‘ইতিহাস ধরব তুলে, বই যাবে তৃণমূলে’Ñ এ স্লোগান সামনে নিয়ে গত ৮ ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইভর্তি গাড়ি নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার গাড়ি।

একাত্তরের দিনগুলি, আমি বীরাঙ্গনা বলছি, বীরাঙ্গনার জীবনযুদ্ধ, ফিরে দেখা একাত্তরসহ পাঁচ শতাধিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসংবলিত বই নিয়ে সাজানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার গাড়ি। তারই ধারাবাহিকতায় ২৮ জানুয়ারি সোমবার টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় ভ্রাম্যমাণ বইমেলা। চলবে ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার পর্যন্ত। মুক্তিযুদ্ধের নির্বাচিত গ্রন্থসমূহ ২০ শতাংশ কমিশনে মেলায় পাওয়া যায়। সোমবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ বই মেলা পরিদর্শন করে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ এই বইমেলা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটা বড় সুযোগ বই পড়ার। এই বইমেলার বেশির ভাগ বই মুক্তিযুদ্ধনির্ভর। ছেলেমেয়েদের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ইতিহাস জানতে এ রকম বইমেলা সত্যি খুব দরকারি।

মুক্তিযুদ্ধ তথ্য সম্পর্কিত শতাধিক বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ বইমেলা করার জন্য শ্রাবণ প্রকাশনীকে ধন্যবাদ জানাই। এ ধরনের বই পড়ে তরুণ শিক্ষিত সমাজ মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে ও আগামী প্রজন্মকে জানাতে পারবে। এ ধরনের মেলা মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে করার জন্য কর্তৃপক্ষকে স্বাগত জানাই।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান বলেন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা দেখেছি। ‘মুক্তিযুদ্ধের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা’ এই প্রথম দেখলাম। আমি একটি বই কিনেছি।

শ্রাবণ প্রকাশনীর বিপণন ব্যবস্থাপক শেখ ফরিদ বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত কয়েকটি জায়গায় ভ্রাম্যমাণ বইমেলা করেছি। টাঙ্গাইলে এসেও আমাদের খুব ভালো লাগছে। এখানেও অনেক বই বিক্রি করেছি। তবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে তরুণরা বেশি বই কিনছে।

শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক বলেন, এর আগে আমরা বঙ্গবন্ধুর বই নিয়ে ভ্রাম্যমাণ মেলা করেছিলাম। এখন সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা। শুধু বই বিক্রি উদ্দেশ্য না। এটা আমাদের একটা আন্দোলনের মতো। বই পড়ানোর আন্দোলন। বইকে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আন্দোলন। আমরা দেখেছি বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম বই কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। তারা বই কিনছে। এই যে পাঠক তৈরি করা। এই আন্দোলনটাই আমরা ছড়িয়ে দিতে চাইছি।’ উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা শহর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইভর্তি গাড়ি নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে শ্রাবণ প্রকাশনীর ভ্রাম্যমাণ বইমেলার গাড়ি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

"