ইউজিসি স্বর্ণপদক অর্জন করায় চবি উপাচার্যকে সংবর্ধনা

প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সমাজবিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী রচিত গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘দলিত ও জাতি-বর্ণ বৈষম্য : পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) স্বর্ণপদক লাভ করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের আয়োজনে ১৭ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ৮টায় চট্টগ্রাম শহরের একটি হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, কলা ও মানবিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম, ব্যবসায় প্রশাসনের ডিন প্রফেসর ড. এ এফ এম আওরঙ্গজেব, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর এ বি এম আবু নোমান, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. শংকর লাল সাহা। অনুষ্ঠানে উপাচার্যকে ডিনদের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপাচার্য একজন জ্ঞান তাপস শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞানী, গবেষক, সৎ, দক্ষ ও যোগ্য প্রশাসক। তার সুদক্ষ নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একদিকে জ্ঞান-গবেষণার তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে অন্যদিকে প্রশসনিক অবকাঠামো তৈরিতে অভূতপূর্ব উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। বক্তারা বলেন, উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এক দিনের জন্যও অনভিপ্রেত বন্ধ হয়নি। মাননীয় উপাচার্যের সুযোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, প্রশাসনিক কর্মকা-ের পাশাপাশি এই প্রতিথযশা সমাজবিজ্ঞানী বহু গবেষণামূলক গ্রন্থ দেশকে উপহার দিয়েছেন আর স্বর্ণপদককে ভূষিত হয়ে গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কে গৌরবের অংশীদার করেছেন। এ ছাড়াও বরেণ্য এ সমাজবিজ্ঞানী মুক্তমনা ও কলামিস্ট হিসেবে সর্বমহলে বিশেষ সুখ্যাতি রয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, এ প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানী রচিত গ্রন্থটির সুপারিশমালা-নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে এ দলিত জনগোষ্ঠী দেশের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেদের জীবন-মান উন্নয়নে সক্ষম হবে। বক্তারা উপাচার্যের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গলকামনা করেন।

উপাচার্য তার বক্তব্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করায় আয়োজকদের বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, এ অর্জন তার একার নয়, গোটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের। প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য বলেন, তার রচিত গ্রন্থে সমাজের বৃহত্তর-উচ্চ-মধ্য ও নিম্নবিত্তের মনস্তাত্বিক অভিধায়, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও জরিপ কৌশলে বাংলাদেশের হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈষম্য জোরালোভাবে সমর্থিত। অস্পৃশ্য, নিচু জাতি-বর্ণ, বহিঃজাতি বর্ণ ইত্যাদি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক দ্যোতনাবাহী পেশাজীবীরা, যারা বিশেষভাবে ও কার্যকরভাবে বিধ্বস্ত, শোষিত, অত্যাচারিত, অপমানিত ও ক্ষতিগস্ত তাদের দলিত বলে সম্বোধন করা যায়। গ্রন্থটিতে প্রথমবারের মতো ‘দলিত’ প্রত্যয়টি বাংলাদেশে একাডেমিক জগতে উপস্থাপিত এবং ইতোপূর্বে অনাবিস্কৃত মুসলিম দলিতদের নিয়ে গবেষণা-প্রকাশনা এটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উপাচার্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

"