প্রাইম ইউনিভার্সিটিতে সুচিন্তার জঙ্গিবাদবিরোধী সেমিনার

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের মনোজগৎ জাগ্রতকরণ ও জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রায় এক বছর ধরে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেমিনার করে আসছে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন। ‘জাগো তারুণ্য রুখো জঙ্গিবাদ’ শিরোনামে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের জঙ্গিবাদবিরোধী কার্যক্রমের এবারের সেমিনারটির আয়োজন করা হয়েছিল ২৯ আগস্ট বুধবার মিরপুরের প্রাইম ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন যুবলীগ নেতা সাজ্জাদুর রহমান রাসেল। তিনি বলেন, আইএসের ওয়েবসাইটে লক্ষ করলে দেখবেন সেখানে নবী করিম (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করা হয়েছেÑ‘তাদের যেখানে পাবে হত্যা কর, যারা বিধর্মী।’ অথচ কোনো ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ সেখানে দেওয়া হয়নি। মক্কা বিজয়ের সময় কোনো একটি যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও প্রতিহত করতে এ বক্তব্য তিনি রেখেছিলেন। কিন্তু সে ঘটনার তাৎপর্য উল্লেখ না করে খ-িতভাবে বক্তব্যটির অংশ দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে মানুষকে। এভাবেই জঙ্গিরা ইসলামকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। অথচ নবীজি (সা.)-এর মতো মানবিক মানুষ সারা দুনিয়াতে কম আছে, যা অন্য ধর্মের মানুষ দ্বারাও স্বীকৃত।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের পরিচালক কানতারা খান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তরুণরাই দেশের শক্তি। তবে সেই তরুণদের যৌক্তিক হতে হবে। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন সরকারসহ সবাই সমর্থন করেছে। সরকার সব দাবি-দাওয়া মেনে নিয়েছে। দাবি পূরণের পর এ আন্দোলন হয়ে উঠেছিল ‘অন্যদের’ উপস্থিতিতে ‘অনিরাপদ’। তৃতীয় শক্তির সেখানে অনুপ্রবেশ ঘটে। আর সেখানে প্রবেশ ঘটেছিল উচ্ছৃঙ্খলতা আর জঙ্গিবাদের। এভাবেই জঙ্গিরা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সফল করতে কোনো না কোনো মাধ্যমের আশ্রয় নেয়। কখনো ধর্মের, কখনো মতবাদের, কখনো সামাজিক আন্দোলনের নামে অন্যয়ভাবে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা করে।

তরুণ সাংসদ অনুপম শাহজাহান জয় অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচক ছিলেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। আমি গ্রামের ছেলে, গ্রামেই বড় হয়েছি। আপনাদের চেয়ে আমার বয়স খুব বেশি নয়। দেশ ডিজিটাল হয়েছে। কিন্তু মানসিকতায় আমরা ডিজিটাল হয়ে উঠতে পারিনি। এখনো আমরা সাঈদীকে চাঁদে দেখি। গুজবে কান দেই। ফলে উগ্রপন্থিরা আমাদের অজ্ঞতার সুযোগ নেয়।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ অগ্রসর রাষ্ট্র। অনেকের কাছেই এই উন্নয়ন ও সাফল্য ঈর্ষণীয়। জঙ্গি হামলার ঘটনায় দেখলাম বাইরের অনেক দেশই ‘লাইভ’ করছে। জঙ্গিরা কাদের হত্যা

করেছে? যারা বাংলাদেশের বন্ধু। যারা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে এসেছে। মনে রাখতে হবে দেশটা নিজের, দেশটা সবার। ভারতে লক্ষ করলে দেখবেন তারা বক্তব্যের শেষে ‘জয় হিন্দ’ বলে। অথচ আমাদের অনেকেই ‘জয় বাংলা’ বলতে দ্বিধাবোধ করে। ‘জয় বাংলা’ কোনো ব্যক্তি বা দলের স্লোগান নয়। বাংলাদেশের স্লোগান। সমাপনী ঘোষণা করেন প্রাইম ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. এম আবদুস সোবহান। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন আজ সারাবেলার সম্পাদক জব্বার হোসেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

"