ইবি শিক্ষার্থীর ‘অবজেক্ট পিকিং রোবট’ উদ্ভাবন

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ক্যাস্পাস প্রতিবেদক

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজীব সাহা ‘অবজেক্ট পিকিং রোবোট’ উদ্ভাবন করেছেন। দুর্গম জায়গা থেকে কোনো বস্তু উদ্ধারের কাজে রোবটটিকে কাজে লাগানো যাবে। এ ছাড়া রোবটটি স্মার্টফোনে অ্যাপসের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে জানায় সজীব সাহা।

উদ্ভাবনের পর সজীব সাহা জানান, দুর্গম এলাকায় রোবটটি দিয়ে প্রয়োজনীয় বস্তু উদ্ধারের কাজ করা যাবে। স্মার্টফোন দ্বারা রোবটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে বস্তুটিকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো যাবে। রোবটটিতে ৪ চাকাসমৃদ্ধ একটি গাড়ি সংযুক্ত করা হয়েছে, যা কোনো বস্তুকে পরিবহন করতে পারবে। একজন অপারেটরের মাধ্যমে এ রকম অনেকগুলো রোবট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ফলে কাজের ক্ষেত্রে যেমন জনশক্তি কম দরকার হবে, তেমন ঝুঁকিও থাকবে না। রোবটটির সঙ্গে ক্যামেরা ও কালার সেন্সর ব্যবহার করে নির্দিষ্ট বর্ণের বস্তুকে নিজ থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওঠাতে পারবে। একই সঙ্গে অপারেটর ক্যামেরায় ছবি দেখে অনেক দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। এর মাধ্যমে কোনো বস্তুকে ১৮০ ডিগ্রি কোণে ঘুরানো যাবে। রোবটটি তৈরিতে অরডিনো ইউএনও, ৪টি টিডিসি মোটর, ৪টি হুইল চেচিচ, এইচ ব্রিজ (মোটোর স্পিড কন্ট্রোলার এল ১২৯৮এন) ৪টি সার্ভো মোটর, ব্লুটুথ মডিউল (এইচ সি ০৫) ব্যবহার করা হয়েছে।

সজীব জানান, এর আগে রোবটটি ছাড়াও ভয়েস কন্ট্রোল হোম অ্যাপলিকেশন, আলট্রাসনিক, অটোম্যাটিক ওয়াটার লেভেল কন্ট্রোলার, হাই-কোয়ালিটি এমপ্লিফায়ার এলপি গ্যাস সিকিউরিটি সিস্টেম প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছি। তিনি আরো বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল ভালো কিছু করার। বর্তমানে পড়াশোনা শেষে লব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।

ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা আছে, তারা কাজ করতে চায়। শিক্ষার্থীরা নতুন জিনিস উদ্ভাবন করার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলছে। বিভাগের পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ না থাকায় আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারছি না। সরকারের আইটি বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে যুগোপযোগী ও মানসম্মত জিনিস তৈরি করতে সক্ষম হবে। সজীব সাহা সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার বলরামপুর গ্রামের সঞ্জয় সাহার ছেলে আমাদের শিক্ষার্থীরা।

"