কৃষি গবেষণায় সফল ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. এম এ মতিন

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

প্রফেসর ড. এম এ মতিন তার সৃষ্টিশীল গবেষণায় উদ্ভাবিত স্বল্প ব্যয়ের গভীর নলকূপ ওয়াটার স্টেটমেন্ট প্লান্ট, টিস্যু কালচারের বীজ আলু, লাউ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির লাউয়ের উৎপাদন, চর অঞ্চলের জীবিকা পরিবর্তনের জন্য গবাদি পশুর বর্জ্যে বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন, জৈবসার প্রস্তুত, বাজারজাত কৃষিতে দোতলায় ফসল উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গবেষণায় সফল ব্যক্তি হিসেবে কৃষিতে বিপ্লব সাধিতকারী প্রফেসর ড. এম এ মতিন স্থাপনকৃত আরডিএ স্কুল অ্যান্ড কলেজ আজ দেশের বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে কৃষিজাত যন্ত্রপাতি আবিষ্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর সফল গবেষক। তার উদ্ভাবিত নতুন নতুন প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে স্বদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন যাপনে উন্নত হওয়ায় তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বহির্বিশে^র প্রায় ৫০ থেকে ৫৫টি দেশে। এসব দেশের শত শত কোটি মানুষের জীবনের মান উন্নয়ন হয়েছে। তৃতীয় বিশে^র মধ্যম আয়ের দেশ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রকৌশলী কৃষিবিদ প্রফেসর ড. এম এ মতিন।

তার সফল গবেষণায় উদ্ভাবিত গভীর নলকূপ ব্যবহৃত হচ্ছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে। যার মধ্যে নোনা পানির কবলিত দক্ষিণ পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলের চট্টগ্রাম, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, সাভার, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকাগুলোতে মিঠা পানি সরবরাহ করে মানুষকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ।

প্রফেসর ড. এম এ মতিনের গবেষণায় উদ্ভাবিত দুইটি টেকনোলজি আরডিএ থেকে প্যাটেন্ট হয়েছে। একটি হলো অল্প ব্যয়ে গভীর নলকূপ ও তার বহুমুখী ব্যবহার আরেকটি পানি বিশুদ্ধকরণ। প্রফেসর ড. এম এ মতিন বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বব্যাংক গভীর নলকূপে সাবসিডি দেয়া বন্ধ করে দেয়। সেই থেকে গবেষণা চলছে কীভাবে অল্প ব্যয়ে গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায়। গভীর নলকূপ খনন ও ব্যবহার উপকরণের ব্যয় কমিয়ে কৃষকের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় প্রতিটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ লাখ টাকা। আরডিএ সেই ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছে মাত্র ২ লাখ টাকায়। বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পশ্চিম তীরে রিসেটেলমেন্ট ভিলেজে পানি সরবাহের কাজ স্বল্প ব্যয়ে করা হয়েছে। কৃষি খাতে খুব বেশি মানুষ শ্রম দিচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এটা কমাতে হবে। জাপানে ৩% মানুষ কৃষি কাজ করে আর বাকিদের বসিয়ে বসিয়ে খাওয়ায়। সিলেট হাওর অঞ্চল ধান পেকে ডুবে যায় কাটার মানুষ নেই। তারা চর অঞ্চল থেকে লোক নিয়ে তাদের আট ভাগের একভাগ ধান দিয়ে ধান কাটায় এসব সেক্টরে আমাদের গবেষণা আরো বাড়াতে হবে। যমুনা ইউরিয়া সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদনের জন্য ওয়াটার স্টেটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন ও পানি সরবরাহের জন্য জাপান কর্তৃক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭২ কোটি টাকা। আরডিএ সেই কাজ করে দিয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ কোটি টাকায়। চট্টগ্রাম ইপিজেডে পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্পের টেন্ডার হয়েছিল ১২২ কোটি টাকা। আরডিএ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে মাত্র সাড়ে ১৯ কোটি টাকায়। আরডিএর পানি বিশুদ্ধকরণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন. বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় কাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পানিতে প্রচুর পরিমাণ আয়রন ও রাসায়নিকের উপস্থিতির কথা জানা যায়। ফলে স্থাপিত গভীর নলকূপগুলোর পানি পানের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। আমরা গবেষণা করে উদ্ভব করি দুইটি পন্থা। দেশের অনেক যেসব স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে আর্সেনিক ও আয়রনের পরিমাণ মানব দেহের সহনীয় মাত্রায় রয়েছে ওইসব স্থানে ওই স্তরে স্টেইনলার ফিল্টার স্থাপন করে বিশুদ্ধ পানি উত্তোলন করা অপরদিকে ভূগর্ভস্থ পানি স্তরে রাসায়নিক আয়রনের মাত্রা গ্রহণযোগ্য মাত্রাতিরিক্ত সেসব স্থানে অক্সিডেশন এবং ফিস্ট্রেশন পদ্ধতিতে ওয়াটার ট্রেটম্যান্ট প্লান্ট স্থাপন করে পানি পরিশোধন করে জনপদে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করা হয়। আরডিএ’র প্রযুক্তিতে সার কারখানা দেশের সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আইইবি কর্ণফুলী ইপিজেড অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপদ পানি সরবরাহ পরিচালিত হচেছ। ট্যানারি প্রজেক্ট ধলেশ্বরী নদী এবং ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনপূর্বক ঘণ্টায় ১ হাজার টন পানি সরবরাহের জন্য সরকার একাডেমিকে দায়িত্ব প্রদান করে। এ প্রকল্পের প্রচলিত ব্যয় ছিল ৩০০ কোটি টাকা। একাডেমির সেই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করেছে প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকায়। প্রকল্পের কার্যক্রম প্রায় সমাপ্তির পথে। দেশে এই প্রথম কোনো ধরনের ওভারহেড ট্যাংক ছাড়াই প্রেসারাইজড পদ্ধতিতে প্রতি প্লটে দুইটি পাইপলাইনের সাহায্যে খাবার পানি ও ট্যানারি স্ট্যান্ডার্ডে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সরকারের ওই ইকোনমিক জোন অথরিটিতে পানি সরবরাহের দায়িত্বও আমরা নিচ্ছি। আমরা এ পর্যন্ত ২৭৫টি গ্রামে পাইপলাইনের মাধ্যমে খাওয়ার পানি সরবরাহ করছি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মিঠা পানি পাওয়া দুষ্কর। সেইখানে ৩৪টি ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ বাড়িতে আমরা নিরাপদ মিঠা পানি সরবরাহ করছি। সুন্দরবনের কাছে সাতক্ষীরা, পাইকগাছা পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন করলে দেখবেন। আমরা মিঠা পানি সরবরাহ করে এ এলাকার মানুষকে অবাক করে দিয়েছি। পাইকগাছার জনসাধারণ এই আনন্দে আরডিএ’র নামে গেট তৈরি করেছে। সুন্দরবনে কোনো মিঠা পানি নেই। আমরা সেখানে মিঠা পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করেছি। পানি ব্যবস্থাপনায় আরডিএর সাফল্য সম্পর্কে অবগত ভারতের এমভি রাও আমাদের প্রকল্প পরিদর্শনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের ওপারে ভারতের অংশে সুন্দরবনে মিঠা পানি পাওয়া যায় না। সেখানে কীভাবে মিঠা পানি সরবরাহ করা যায়। তিনি সে ব্যাপারে আমার সঙ্গে কথা বলবেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বলছে এখানে কোনো মিঠা পানি নেই। আমরা সেখানে মিঠা পানির খোঁজ দিয়েছি। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, মহিশ গবেষণা কেন্দ্র, সিকিউরিটি প্রিন্টি প্রেসেও আমরা ডিপ টিউবওয়েল ও স্টেটমেন্ট ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম স্থাপন করে দিয়েছি। মেঘনা ঘাটে আবদুল মোনেম গ্রুপ ইকোনমিক জোন স্থাপন করেছে। সেখানে ওয়াটার সাপ্লাই, ওয়াটার স্টেটমেন্টসহ ইটিপি আরডিএ’র মাধ্যমে করা হচ্ছে।

এস এম ফজলুল হক

"