পর্দা নামল ইউল্যাবের ছায়া জাতিসংঘ অধিবেশনের

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে ৬ এপ্রিল শুক্রবার (ইউল্যাব) ধানমন্ডির ক্যাম্পাসে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হলো ইউল্যাব মডেল ইউনাইটেড ন্যাশনস অ্যাসোসিয়েশনের (ইউল্যাবএমইউএনএ) আয়োজনে শুরু হওয়া দুই দিনে ‘ইউল্যাব ছায়া জাতিসংঘ অধিবেশন ২০১৮’ এবং একই সঙ্গে ইউল্যাবে যাত্রা শুরু করল ইউল্যাবএমইউএনএ। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি।

নসরুল হামিদ তার বক্তব্যে বলেন, সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের সপ্তম গোল পূরণের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি আরো বলেন, ‘এসডিজি গোল অর্জনে তরুণদের আরো উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় তরুণদের আগ্রহী হতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে বেশি বেশি প্রশ্ন তুলতে বলেছেন, যেন সেই সমস্যাগুলোর সমাধান তারাই নিয়ে আসতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্রের অফিসার ইনচার্য মোহাম্মাদ মুনিরুজ্জামান। তিনি তার বক্তব্যে ইউল্যাবএমইউএনের যাত্রা শুরু হওয়াতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে জাতিসংঘের উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা। তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থা তুলে ধরে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও জাতিসংঘের একটি বৃহদাংশে অবদানকারী দেশ’।

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. কাজী আনিস আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, ইউল্যাবএএমইউএনের যাত্রা শুরু হওয়াতে আমরা উচ্ছ্বসিত। এমইউএনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ‘গ্লোবাল সিটিজেন’-এ পরিণত হবে।

অধিবেশনের সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউল্যাবের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিশেষ উপদেষ্টা প্রফেসর ইমরান রহমান, ইউল্যাবের ট্রেজারার অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য, রেজিস্ট্রার আখতার আহমেদ, ইউল্যাবএমইউএনএর মডারেটর ইউল্যাবের ইংরেজি ও মানবিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর শামসাদ মর্তুজা, ইউনাইটেড ন্যাশনস ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মামুন মিয়া এবং ইউল্যাবএমইউএনএর সেক্রেটারি জেনারেল কাজী রায়হানুল বারী।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুকরণে আয়োজিত দুদিনব্যাপী এ অধিবেশনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। নির্ধারিত আলোচ্যবিষয়ক ‘টেকসই উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব’ কেন্দ্র করে বিভিন্ন বৈশ্বিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও টেকসই সমাধান নির্ণয়ের লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের পাঁচটি কমিটিতে বিভক্ত করা হয়। দুদিনের আলোচনা শেষে সমাপনী অধিবেশনে প্রতিটি কমেটি থেকে খসড়ানীতি উত্থাপন করা হয়। পরে গণভোটের মাধ্যমে খসড়ানীতিতে উত্থাপিত দফাসমূহ অনুমোদন করা হয় এ ছায়া অধিবেশনে এবং প্রত্যেক কমিটির সেরা প্রতিনিধিদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অমন্ত্রিত অতিথিরা।

জাতিসংঘ ও ইউনিস্যাবের সহযোগিতায় দুদিনব্যাপী এ অধিবেশনের গোল্ড স্পন্সর ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। এ ছাড়া রিফ্রেশমেন্ট পার্টনার হিসেবে ছিল ব্রেড অ্যান্ড বিয়োন্ড, একমি, পাকোয়ান ও কেল্লাফতে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুরু হওয়া এ অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়সাথ শান সাকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

"