অলৌকিক আয়না

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

দিলীপ আচার্য, অনুবাদ : ফজল হাসান

খবরটা চাউর হয়ে গেছে, দেশের অত্যন্ত পরিচিত একজন বৈজ্ঞানিক অলৌকিক আয়না আবিষ্কার করেছেন। বাইরের দিক থেকে দেখতে অলৌকিক আয়নাটি সাধারণ আয়নার মতোই দেখায়। তবে পার্থক্য হলো, অলৌকিক আয়নায় মানুষ নিজের সাধারণ ছবির পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব দেখতে পারে।

বৈজ্ঞানিক উল্লেখ করেছেন, তিনি পরে একসময় আয়নার রহস্য খোলসা করবেন। তার আগে এই উদ্ভাবন নিয়ে তিনি এক উন্মুক্ত প্রদর্শনীর

ব্যবস্থা করেন ।

প্রদর্শনীতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটের অসংখ্য দর্শক অংশগ্রহণ করে এবং তারা আয়নাটি দেখে। আয়নায় দর্শনার্থী একজনও নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায়নি এবং বিভিন্ন দর্শক বিভিন্ন ধরনের প্রতিবিম্ব দেখেছে, যেমন অকল্পনীয় আলোকচ্ছটা এবং নানার

রঙের মিশ্রণ।

প্রদর্শনীর শেষ দিনে একজন স্বনামধন্য রাজনীতিবিদ সেই অলৌকিক আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি অস্পষ্ট, বিবর্ণ এবং শয়তানের মতো ছায়া দেখতে পেলেন এবং সাদাসিদেভাবে বললেন, ‘আমি যখন আয়নায় তাকিয়েছি, তখন প্রতিবিম্বটি আমার কাছে ভালো লাগেনি।’

দর্শকদের মাঝে একটি বালকও ছিল। যেইমাত্র সে অলৌকিক আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে, উল্লসিত হয়ে তখনই উপরের দিকে দু’হাত তোলে এবং বলে, ‘ওয়াও...! প্রতিবিম্বটি অদ্ভুত সুন্দর... এটা এতই রঙ-বেরঙের এবং আকর্ষণীয়... আয়নাটি আমার খুব ভালো লাগছে...।’

বৈজ্ঞানিক সম্মানের সঙ্গে একজন সাধুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সাধুকে তার আবিষ্কৃত অলৌকিক আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করার জন্য অনুরোধ করেন। সাধু আয়নার সামনে দাঁড়ায় এবং কয়েক সেকেন্ড গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন। তারপর তিনি বললেন, ‘আয়নায় আমি কিছুই দেখতে পাইনি... আমার কাছে মনে হয়েছে পানির মতো রঙহীন...।’

তিনজনের কাছ থেকে একই জিনিসের তিন ধরনের জবাব শুনে উপস্থিত সব সাংবাদিক আয়নার বিশেষত্ব খুলে বলার জন্য বৈজ্ঞানিককে জিজ্ঞাসা করে। এক মুহূর্তের জন্য বৈজ্ঞানিক চুপ করে থাকেন। তারপর তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে শুরু করেন, ‘...এটা সত্যি যে, নিঃসন্দেহে এই আয়না প্রতিবিম্ব সৃষ্টি করে, কিন্তু পার্থক্য হলো, মানুষের বাহ্যিক আকৃতির পরিবর্তে এই আয়নায় মানুষের চরিত্র, প্রকৃতি এবং নৈতিকতাকে দেখা যায়।’

গল্পসূত্র : ‘অলৌকিক আয়না’ গল্পটি দিলীপ আচার্যের ‘স্পেসিয়াল্টি’ গল্পের অনুবাদ। গল্পটি লেখকের ‘লঘুকথা’ ব্লগে ২০০৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সেখান থেকে নেওয়া হয়েছে।

লেখক পরিচিতি : দিলীপ আচার্যের (দিলীপ প্রসাদ আচার্য) জন্ম নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে, ১৯৬৯ সালে। তিনি ‘বেইজিং ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচার ইউনিভার্সিটি’ থেকে চীনা ভাষা ও সাহিত্যে ব্যাচেলার এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শৈশব থেকেই লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। তার লেখা ছোটগল্প নেপালের বহুল পরিচিত দৈনিকে (যেমন ‘গোর্খাপত্র’ ও ‘কান্তিপুর’) এবং বিভিন্ন সাহিত্য ও অনলাইন ম্যাগাজিনে নিয়মিত প্রকাশিত হয়। তিনি মূলত নেপালি ভাষায় ছোটগল্প লেখেন, তবে ইংরেজি এবং চীনা ভাষায়ও গল্প লেখায় পারঙ্গম। সম্প্রতি বেইজিং ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে চীনা ভাষায় তার ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া নেপালি ভাষায় ছোটগল্পের সংকলন প্রকাশের অপেক্ষায় আছে। বর্তমানে তিনি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং সপরিবারে কাঠমান্ডুতে বসবাস করছেন।

 

"