বৈশাখের আনন্দ ও বাঙালি সংস্কৃতি

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪৯

ফকির ইলিয়াস

মানুষ মঙ্গল চায়। মানুষ কল্যাণ চায়। চায় প্রকৃতির প্রতি ঋজুতা। মানুষ প্রজন্মে প্রজন্মে গড়ে যেতে চায় ভালোবাসার সেতু। বাংলাদেশে বৈশাখবরণ তেমনি একটি সার্বজনীন উৎসব। যে উৎসবটি সব ধর্ম, বর্ণ, জাতি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী মানুষকে নিয়ে আসে একই কাতারে। সবাই দাঁড়ায় অসুরের বিরুদ্ধে।

বাংলা নববর্ষ সমাগত। ১৪২৬ বঙ্গাব্দ কড়া নাড়ছে আমাদের দরজায়। কবিগুরু বলেছেন ‘এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ/তাপস নিশ্বাস বায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,/বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক/ যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি,/অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক। মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা/রসের আবেশ রাশি শুষ্ক করি দাও আসি,/আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ/মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক।’

বাঙালির বৈশাখী আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর নতুন মাত্রা এসেছে এই উৎসবের। দেশে-বিদেশে প্রজন্ম মেতে উঠছে নাচে গানে, কবিতায়, সুরে, উচ্ছ্বাসে, ভোজে-বিলাসে। ৩০ নভেম্বর ২০১৬ এই মঙ্গল শোভাযাত্রা পায় ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি। জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক এই সংস্থা ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আন্তঃদেশীয় কমিটির একাদশ বৈঠকে ‘রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইন্টানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউমিনিটির তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রা অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও ইউক্রেন, কম্বোডিয়া, কিউবা, স্পেন, আফগানিস্তান, বেলজিয়াম ও উগান্ডার একটি করে ১০টি উৎসব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে জামদানি শাড়ি ও ২০০৮ সালে বাউল সংগীত ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।

বিশ্ব পরিম-লে বাঙালি জাতিসত্তার এই অগ্রযাত্রা প্রজন্মকে শাণিত করছে। হ্যাঁ আমরা একটি অগ্নিস্নান চাই। চাই শুচি হোক ধরা। বৈশাখ বাঙালির উৎসব। মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালির উৎসব। সেই উৎসবকে বন্ধ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বর্ষবরণের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের বিরোধিতা করেছে কেউ কেউ।

এই মঙ্গল শোভাযাত্রার দিকে ফিরে তাকালে আমরা দেখি তা প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৮৫ সালের পহেলা বৈশাখে যশোরে। তখন ছিল দেশে সামরিক স্বৈরশাসন। উদ্দেশ্য ছিল দেশের লোকজ সংস্কৃতি উপস্থাপনের মাধ্যমে সব মানুষকে এক করা। এক যাত্রায় নিয়ে আসা। আর সেই শোভাযাত্রায় অশুভের বিনাশ কামনা করে শুভ শক্তির আগমনের প্রার্থনা করা। এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন চারুশিল্পী মাহবুব জামাল শামিম। তিনি ঢাকার চারুকলা থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে যশোরেই ‘চারুপিঠ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন তখন। তিনি মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন, পহেলা বৈশাখে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্দেশ্য ছিল দুটি। দেশের লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরা। আর তার মাধ্যমে সবাইকে সত্য এবং সুন্দরের পথে আহ্বান করা। তাই তাদের শোভাযাত্রায় স্থান পায় নানা ধরনের চিত্র, হাতে বানানো পাখা, ঘোড়া, হাতি, ঢোল, বাঁশি প্রভৃতি। শোভাযাত্রাটি থাকে নান্দনিকতায় পরিপূর্ণ। এই শোভাযাত্রার মূলভাব প্রতিবাদের, ভালোবাসার এবং দ্রোহের। সেখানে অশুভের বিনাশ কামনা করা হয়। প্রার্থনা করা হয় সত্য এবং সুন্দরের জন্য। আনন্দের কথা হচ্ছে, এখন দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও এই মঙ্গল শোভাযাত্রা ছড়িয়ে পড়েছে। পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা একটি প্রধান অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সারা দেশে একই সময় পহেলা বৈশাখ সকাল ১০টায় এই মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও ১৩, ১৪ এপ্রিল ২০১৯ নিউইয়র্কে জমজমাট বৈশাখী মেলা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করছে এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইনক নামের একটি সংগঠন। যার সহযোগী থাকছে ‘মুক্তধারা নিউইয়র্ক’। এই আয়োজনে বইপত্র, পিঠা-পুলিসহ রকমারি স্টল থাকছে দুই দিনব্যাপী। ভোরবেলায় বৈশাখ বন্দনা দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করছে নিউইয়র্কের ‘আনন্দধ্বনি’। সঙ্গে প্রাতরাশ।

আসছে ১৪ এপ্রিলের ভোরে এমন আমন্ত্রণই দেওয়া হয়েছে বৈশাখ বরণে। গানে, কবিতায় ও কথায় আমরা সম্মিলিতভাবে বরণ করবে বাংলাবর্ষ। প্রায় ৩ ঘণ্টব্যাপী এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে থাকছে আনন্দধ্বনির অর্ধশতাধিক শিল্পী ও যন্ত্রী শিল্পীদের সমন্বয়ে সন্মেলক গান ও একক পরিবেশনা, পাশাপাশি থাকবে প্রবাসের বিশিষ্ট শিল্পী ও আবৃত্তিকারের পরিবেশনা ও সংষ্কৃতিজনদের অনভূতি। অনুষ্ঠান শুরু হবে প্রভাত আলোয় সেতারের সুরের মূর্চ্ছনায় সকাল ৭টায়। অনুষ্ঠানে মূলত পঞ্চ গীতিকবির গান, লোকগান, গণসংগীত এবং দেশের গান পরিবেশন করা হবে। সঙ্গে থাকবে আমাদের ভালোবাসার উষ্ণতায় মোড়া বৈশাখী প্রাতরাশ। ‘আনন্দধ্বনি’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘আমরা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন এই কাজটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সহজ নয়, মধ্য এপ্রিলের শীতের ভোরে দর্শকদের অনুষ্ঠান মঞ্চে সমবেত করা একটি প্রায় অসম্ভব কাজ। তা সত্ত্বেও এই উদ্যোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। আপনারা জানেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির এক সার্বজনীন লোকউৎসব। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। বাংলাদেশে এই দিনটি উদ্যাপনের জন্য আমরা বরাবর অতি প্রত্যুষে, ভোরের প্রথম আলো সম্ভাষণ জানানোর আগেই রমনার বটমূলে সমবেত হয়েছি। আমরা সেই ঐতিহ্যটি ফিরিয়ে আনতে চাই প্রবাসেও, প্রত্যুষে নববর্ষ উদ্যাপনের সেই আনন্দ, আগ্রহ ও প্রত্যাশার অভিজ্ঞতা কিছুটা হলেও প্রবাসী বাঙালিদের মনে আমরা সঞ্চারিত করতে চাই।’

২০১৩ সালে নিউইয়র্কে গঠিত ‘আনন্দধ্বনি’ একটি স্বেচ্ছাশ্রমভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন, যা তিন দশক পূর্বে যাত্রা শুরু করে ছিলেন বাংলাদেশে প্রথিতযশা সাংবাদিক ও সংগীতগুরু ওয়াহিদুল হক। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানিকটিকাট ও পেলসিলভিনিয়ায় বসবাসরত আনন্দধ্বনির দুই বাংলার শিল্পীরা শুদ্ধভাবে গান পরিবেশন করতে চেষ্টা করে। সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও সংষ্কৃতিজন প্রবাসের শত পরিশ্রমের মধ্যেও সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আনন্দধ্বনি গড়ে তুলেছে। মূলত এর পেছনে রয়েছে তাদের বাংলা ভাষা, সংগীত ও স্বদেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা; সর্বোপরি ত্যাগ এবং সংগীতের প্রতি একগ্রতা। লন্ডন, নিউইয়র্ক, সিডনি, টরেন্টো, টোকিও, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডাসহ অনেক দেশেই এখন বের হয় এই মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঢাকায় এই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে চারুকলা ইনস্টিটিউট। এই শোভাযাত্রার আয়োজনে নানা ধরনের চিত্র, প্রতিকৃতি, মুখোশ তৈরি করেন চারুকলার ছাত্র এবং শিক্ষকরা। প্রাণের টানে, স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে আসেন হাজার হাজার তরুণ-তরুণী। বিদেশে বাঙালি প্রজন্ম ওয়েবসাইটে সার্চ দিয়ে জানতে পারছে তাদের শিকড়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

ইউনেস্কো তার ওয়েবসাইটে মঙ্গল শোভাযাত্রার ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই শোভাযাত্রা বের হয়। ১৯৮৯ সালে সামরিক স্বৈরশাসনের হতাশার দিনগুলোতে তরুণরা এটা শুরু করেছিল। শিক্ষার্থীরা অমঙ্গলকে দূর করার জন্য বাঙালির নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক, প্রাণীর প্রতিকৃতি ও মুখোশ নিয়ে শোভাযাত্রা করে। মঙ্গল শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আরো যে কয়েকটি কারণ ইউনেস্কো উল্লেখ করেছে তা হচ্ছে এই শোভাযাত্রা অশুভকে দূর করা, সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতীক। এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাঙালির ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতিগত সব ধরনের বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

আমি মনে করি, বাঙালি জাতি ১৯৭১ সাল থেকেই তাদের নবউদ্যমে যাত্রা শুরু করেছে। বিজয়ী জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বিশ্বে। আর এখন বাঙালি জাতির সাংস্কৃতিক কৃষ্টি ও সভ্যতাকে বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা অব্যহত রাখা সম্ভব। আমরা দেখি প্রতি বছরই শোভাযাত্রাকে ঘিরে তৈরি হয় বৃহৎ আকারের নানা মুখোশ। বাঁশ-বেত দিয়ে তৈরি হচ্ছে পাখি। তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির নানা শিল্প-কাঠামো। তার জন্য আনা হচ্ছে বাঁশ, বেত ও অন্যান্য সরঞ্জাম। অন্ধকারের বিরুদ্ধে এই যে নানা মোটিভ তা হচ্ছে শৈল্পিক প্রতিবাদ। শোভাযাত্রায় অন্য অনুষঙ্গের সঙ্গে থাকে সূর্যের মুখের কাঠামো। অন্ধকার তাড়াতে যেন আলোয় ভরে ওঠে পৃথিবী।

মনে পড়ছে, বাঙালির উন্নত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, খাদ্য, সংগীত, চিত্রকর্ম এবং সাহিত্য আমেরিকানদেরও সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বিশ্বের বাঙালিদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ১৪২৩ এর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেছিলেন। ওবামা বলেছিলেন, বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর গৌরবময় ইতিহাস এবং সংস্কৃতির এই উৎসবে যুক্তরাষ্ট্রও সঙ্গে রয়েছে। বাংলা উচ্চারণে ‘শুভ নববর্ষ’ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা বাঙালিদের উদ্দেশে আরো বলেছিলেন, ‘পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে আপনারা যখন এই বর্ষবরণে একত্রিত হবেন তখন আপনাদের বন্ধু এবং এই আনন্দের অংশীদার হয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের পাশে রয়েছে।’

বাঙালির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে একই সূত্রে গাঁথা। একাত্তরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সবাই দেশমাতৃকার মুক্তিপণে অগ্রবর্তী বাহিনীর ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের অনেকেই এখনো আছেন এই বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক বটবৃক্ষ হয়ে। বেদনার কথা হচ্ছে, বর্ষবরণের উৎসবে এ চেতনাকে নস্যাৎ করার জন্য স্বাধীনতার আগে ও পরে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আঘাত করা হয়েছে বারবার। বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি। বাঙালি জাতি নববর্ষকে ধারণ করেছে তাদের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে। প্রজন্ম প্রত্যাশা করে, পহেলা বৈশাখে বাঙালি সংস্কৃতির এ চর্চা আমাদের জাতিসত্তাকে আরো বিকশিত করবে। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি জোগাবে। রাজনীতির নামে সন্ত্রাস, আগুনে পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা ও দেশের সম্পদ ধ্বংসকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আরো ঐক্যবদ্ধ করবে। হ্যাঁ সেই ঐক্যের পথেই এগিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ। দেশের মানুষ শান্তি চায়। তাই কিছু ধর্মীয় উন্মাদের হাতে আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি জিম্মি থাকতে পারে না।

সারা দেশে বৈশাখী মেলায় বাংলার সংস্কৃতি ও লোকশিল্পকে ছড়িয়ে দিতে অবদান রেখে চলেছে এই সার্বজনীন উৎসবটি। বৈশাখ তার আপন ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দেয় স্বমহিমায় প্রতিটা বাঙালির অন্তরে। বৈশাখের আঁকিবুকিতে বাঙালি নারী আর শিশুদের নানা রঙের পোশাকের সাজ ও ছেলে-বুড়োদের বৈশাখী পোশাকে চেতনাকে জাগিয়ে দেয় অন্য রকম আনন্দে। বৈশাখী মেলা মানেই বাঙালির সার্বজনীন মিলনমেলা। আমরা শৈশবে দেখেছি, শুভ হালখাতা মহরতের মাধ্যমে মিষ্টিমুখ করেই এই দিনটি শুরু হতো গ্রামে গ্রামান্তরে ব্যবসায়ী মহলে। আজ তা ছড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী। মানুষের সম্প্রীতির সেতু হিসেবে দিনটি প্রজন্মের মননে থিতু হলেই স্বার্থক হবে সব আয়োজন।

 

"