বৈশাখ মানে ফলের রাজ্যে আগমন

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

এমদাদুল হক, শেকৃবি

আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, আমলকী, আনারস, কদবেল, চালতা, জলপাই, কামরাঙার সঙ্গে জামরুল। নামগুলো শুনলে সহজেই যে কারো জিহ্বায় জল চলে আসবে। কথায় আছে, ফলই বল। কিন্তু এসব সুস্বাদু দেশি ফল সহজে মেলা ভার।

বাংলাদেশে প্রায় ১৩০ রকম ফলের সন্ধান পাওয়া যায়। তার মধ্যে প্রায় ৭০ রকম প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফলের ভান্ডার রয়েছে যা অযতেœ-অবহেলায় ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। এসব ফল সারা বছর সমান হারে পাওয়া না গেলেও বৈশাখ থেকে শ্রাবণ এ চার মাসেই মেলে প্রায় ৫৪ শতাংশ। বাকি আট মাসে পাওয়া যায় মাত্র ৪৬ শতাংশ। আবার জৈষ্ঠে অর্থাৎ মধু মাসে ১৪ শতাংশ ও আষাঢ় মাসে ১৭ শতাংশ ফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ মোট উৎপাদনের ৩১ শতাংশ ফল পাওয়া যায় এ দুই মাসে। তাই বৈশাখ বরণ মানেই যেন ‘ফলের রাজ্যে আগমন।’

আমাদের এসব দেশি ফল বিদেশি ফলের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। শুধু স্বাদে, গন্ধেই নয় পুষ্টি মানের বিচারেও উৎকৃষ্ট। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ নামি-দামি বিদেশি ফল আপেল, আঙুর, মাল্টার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। অথচ বিদেশি ফলের চেয়ে দেশি ফলে পুষ্টি উপাদান অনেক বেশি। বিদেশি ফল আপেলে ভিটামিন-সি আছে প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ৩ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। অপরদিকে বাংলার আপেল বলে খ্যাত পেয়ারাতে ভিটামিন-সি আছে ২১০ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ পেয়ারায় আপেলের চেয়ে ৫০ গুণেরও বেশি ভিটামিন-সি আছে।

আঙুরে খাদ্যশক্তি আছে ১৭ কিলোক্যালরি আর কুলে (বরই) খাদ্যশক্তি আছে ১০৪ কিলোক্যালরি যা ছয় গুণেরও বেশি। আঙুরে ভিটামিন-সি আছে ২৮ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, কুলে ভিটামিন-সি আছে ৫১ মিলিগ্রাম অর্থাৎ প্রায় দ্বিগুণ। পাকা আমে ক্যারোটিন আছে ৮৩০০ মাইক্রোগ্রাম, পেঁপের মধ্যে আছে ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম, কাঁঠালে আছে ৪৭০০ মাইক্রোগ্রাম। সে তুলনায় আঙুর, আপেল, নাশপাতি, বেদানায় ক্যারোটিন আদৌ নেই। বিদেশি ফল মাল্টা ক্যারোটিনশূন্য অথচ দেশি কমলায় ক্যারোটিনের পরিমাণ ৩৬২ মাইক্রোগ্রাম।

আমাদের দেশের অধিকাংশ লোক পুষ্টিহীনতার শিকার। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২০০ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন যেখানে আমরা গ্রহণ করছি গড়ে মাত্র ৭৭ গ্রাম। যার ফলে দেশের ৮৮ শতাংশ লোক ভিটামিন-এ, ৮৭ শতাংশ ভিটামিন-সি, ৯৬ শতাংশ বাইরোফ্লোভিন এবং ৯৩ শতাংশ লোক ক্যালসিয়ামের অভাবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও দেশের ৭০ শতাংশ লোকই রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। এদের মধ্যে প্রধান ভুক্তভোগী হচ্ছে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও বৃদ্ধা। দেশীয় উৎপাদিত দেশি ফল খেলে ওইসব সমস্যা থেকে সহজেই পরিত্রাণ পাওয়ার সম্ভব।

"