প্রত্যাশার সংবাদমাধ্যম

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

সানাউল্লাহ সাগর

আমার যখন সংবাদপত্রের সঙ্গে পরিচয় ঘটে, তখন জনকণ্ঠ-ইনকিলাবের যৌবন। একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়ি হওয়ার কারণে তাও নিয়মিত পেতাম না। ইনকিলাব পড়তেন আমার ছোট মামা। আর জনকণ্ঠ পড়তেন এক শিক্ষক। এরপর যুগান্তর-সমকালের সঙ্গে পরিচয়। প্রথম দিকে খেলাধুলা আর বিনোদন পাতায়ই চোখ ঘুরে বেড়াত। তারপর বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পছন্দের গ-ি বড় হয়েছে কিংবা পরিবর্তন হয়েছে। সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয় এবং সাহিত্য পাতার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। সেটা এইচএসসি পাসের পরের ঘটনা। এরপর যখন সাংবাদিকতার প্রতি আগ্রহী হয়ে পর্যায়ক্রমে দেশবাংলা-জনতা-বাংলাদেশ সময় পত্রিকার সঙ্গে কাজ শুরু করি, তখন আবার পত্রিকার সংবাদের চেয়ে শিরোনামগুলোই বেশি দেখতাম। এই যে আমার মতো একজন পাঠকের বিবর্তন সেটাই অনেকাংশে গ্রামে বাস করা কিংবা মফস্বলে বেড়ে ওঠা মানুষের চিত্র। অনলাইনের জোয়ারে এখন প্রিন্ট পত্রিকার অনেকটা ভাটা চলছে, এ রকম কথা শোনা যায়। এটাকে একেবারে মিথ্যে বলে উড়িয়েও দেওয়া যায় না। অনলাইন ব্যবহার করা মানুষেরা এখন খুব কমই প্রিন্ট পত্রিকা সংগ্রহ করেন। তারা অনেকাংশেই অনলাইনে প্রয়োজনীয় সংবাদটি পড়ে নিতে পারেন। এক বা একাধিক পত্রিকায়। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এখনো গ্রামে বসবাস করেন। অনলাইন সচেতনতা কিছুটা তৈরি হলেও সর্বসাধারণের ব্যবহারের জায়গায় যেতে পারেনি। সেহেতু প্রিন্ট পত্রিকাই তাদের শেষ ভরসা বলা যায়। বাংলাদেশের এমন অনেক গ্রাম এখনো আছে যেখানে স্থল যোগাযোগ কঠিন। বিদ্যুৎ নেই। সেসব জায়গায় একটা সাপ্তাহিক পত্রিকাও মুদি দোকানে বিকেলে মিলিত হওয়া অর্ধশিক্ষিত মানুষেরা দল করে পড়ে। সে জন্য প্রিন্ট সংবাদপত্রের গুরুত্ব এখনো অনেক, সেটা স্বীকার করতেই হবে। আর এই সংবাদমাধ্যমের প্রতি বিশ্বাস থাকে মানুষের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সূত্রহীন সংবাদ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। সেই জায়গা থেকে সংবাদমাধ্যমের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা বর্তমানে নেতৃত্ব দেওয়া সংবাদপত্রগুলোর দায়িত্ব। দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের কাছে এই প্রত্যাশা থাকবে, তার সংবাদ প্রকাশে সততা-সত্যতা রেখে মানুষের ভালোবাসায় এগিয়ে যাবে অনেক পথ।

"