মেধা ও মুগ্ধতার নাম

প্রকাশ | ০৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

তন্ময় আলমগীর

পত্রিকা পড়ার নেশা হওয়ার আগে থেকেই আমাকে জানানো হয়েছিল, পত্রিকায় বানোয়াট, মিথ্যা খবর থাকে বিধায় তা পাঠ করা এবং সেখান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা মোটেও সমীচীন নয়। অতকিছু বুঝতাম না তখন। তবে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি বরাবরই প্রচ- আগ্রহী আমি। আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বোর্ডিংয়ের পাশেই ছিল পাবলিক লাইব্রেরি। দেশের প্রকাশিত প্রায় সব পত্রিকাই রাখা হয় সেখানে। বিকেল হলে বন্ধুরা মাঠে খেলতে বা ঘুরতে যেত। আমি চলে যেতাম লাইব্রেরিতে। অন্য কিছু নয়, কেবল পত্রিকা পড়ার জন্য। খেলাধুলা ও বিনোদনের খবরই ছিল আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। জানার পরিধি বৃদ্ধির পাশাপাশি দারুণ আনন্দ পেতাম। কিন্তু কেন নিষেধ করা হয়েছিল তা আজও আমার কাছে রহস্য লাগে। কেননা, পত্রিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার ফলে নিষিদ্ধ হওয়ার মতো কোনো কারণ ও উপকরণ এখনো আমার চোখে পড়েনি।

প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার সঙ্গে আমার অন্তরঙ্গতা বেশ জোরালো। পত্রিকাটির শুক্রবাসরীয় সাহিত্য সাময়িকী আমাকে তার প্রেমে পড়তে বাধ্য করে। মানসম্মত লেখা, বিষয়বস্তু নির্বাচন, মেকআপ সবকিছুই মুগ্ধ হওয়ার মতো। একসময় নিজেও সে সাময়িকীতে লেখালেখির সুবাদে পত্রিকাটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরো বেড়েছে বৈকি।

সপ্তম বছরে পা দেওয়া পত্রিকাটি এখন বেশ পরিপক্ব। প্রতিদিন পাঠ করার ফলে লক্ষ করেছি, পত্রিকাটির প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে মেধা, শ্রম এবং যতেœর ছাপ। নির্ভুল তথ্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, বিশ্লেষণধর্মী কলাম, ছোটদের আয়োজনসহ প্রতিটি পৃষ্ঠাই ঝকঝকে ও থকথকে মোড়কে আবদ্ধ। পত্রিকা আসলে এমনই হওয়া উচিত, যাকে নিয়ে গর্ব করা যায়। প্রতিদিনের সংবাদ এমনই একটি পত্রিকা।

অনলাইন পোর্টাল, টেলিভিশন ও রেডিওর কল্যাণে খবরাখবর এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। ইচ্ছে করলে যখনের খবর তখনই খুব সহজে এবং দ্রুত জানা যায়। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেটনির্ভর মানুষের জন্য কাগুজে সংবাদপত্রগুলোও পিছিয়ে নেই। তাদেরও রয়েছে নিজস্ব আপডেটেড ওয়েবসাইট। এতদ্বসত্ত্বেও সকাল বেলা দরজার নিচে ফেলে যাওয়া পত্রিকা হাতে নিয়ে বুক ভরে কাগজের ঘ্রাণ নেওয়ার মানুষ খুব একটা কমেনি। আশা করি সেই সব মানুষের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে প্রিয় দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ।

"