প্রতিদিনের সংবাদকে ভালোবাসা

প্রকাশ | ০৩ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

কাউসার মাহমুদ

উত্তরাধুনিক কালের এ সময়ে এসে গণমাধ্যম বা সংবাদপত্র আধুনিক মানুষের জীবনের অনিবার্য অনুষঙ্গ। পৃথিবীতে সংবাদপত্র প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই মানবজীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সাংবাদিকতা অসম্ভব প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এর আবেদন শুরুকাল থেকে আজ অবধি একটুও কমেনি। তবে হ্যাঁ, সময় ও কালের সঙ্গে কিছু পত্রিকা বা গণমাধ্যম সত্য ও নিষ্ঠায় সামান্তরিক হয়ে চলতে না পারায় তাদের আবেদন-অবদান ও পাঠকচাহিদা দুটোই হারিয়েছে। কারণ, স্বভাবতই মানুষ কখনো দীর্ঘ একটি সময় ধরে প্রলেপ ও মিথ্যের আবহে আবদ্ধ থাকে না। বিবেকই উদ্ধার করে তাদের।

আমাদের যাপিতকালের নানা গুরুত্বপূর্ণ অজানা ঘটনা সংবাদের পাতা হয়ে আমাদের সামনে আসে। সমাজ, দেশ ও পৃথিবী সম্পর্কে সচেতন একজন মানুষ সর্বদাই সংবাদমুখী। তাই বোদ্ধা পাঠক যারা আছেন, তারা নিজেরাই খুঁজে বের করেন সুস্থ ও সমৃদ্ধ একটি সংবাদ পত্রিকা। সে হিসেবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের সন্নিবেশ, চলমান গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা বা ইস্যুর স্বচ্ছ বিশ্লেষণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর তথ্যসমৃদ্ধ সঠিক খবর বাজারজাত এবং যেকোনো অবস্থাতেই সাধারণ জনগণের মতামত রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরা সংবাদপত্রকেই পাঠক মন দিয়ে পড়েন। আগ্রহ ভরে চোখ রাখেন পাতায় পাতায়। ষষ্ঠবার্ষিকী পালন করা প্রতিদিনের সংবাদ বোধকরি এ ঘরানারই সংবাদপত্র।

মাত্র ছয় বছর পার করে আসা একটি পত্রিকার ব্যাপারে এমন দুর্দান্ত উচ্চারণ! একটু অত্যুক্তিই হয়ে গেল বৈকি? আমার মনে হয় না। কারণ, সমকালে দেখতে পাই পয়সার দেবব্রত শক্তিতে অনেক কুটিলরাই সংবাদপত্র খুলে বসেছেন। নিজেদের পিঠ আর পেটের ধান্ধাই যেখানে মুখ্য। সমাজ, দেশ ও জাতি যেখানে নিতান্ত তুচ্ছ ও অপাঙ্ক্তেয়। এমন বিপৎসংকুল ও স্বার্থান্ধদের কালো পথ ছেড়ে প্রতিদিনের সংবাদ সত্য সংবাদের রাজপথে হেঁটে এসেছে। নানা সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তাদের যুগপৎ প্রচেষ্টা ও এই অর্ধ যুগের মসৃণ সফলতা তাদের উতরে দিয়েছে একটি পর্যায়ে। যেখান থেকে আমরা আশা করতেই পারি, এটির দীর্ঘায়ু ও প্রথম সারিতে উত্তরণের। জন্মদিনে তাই শুভেচ্ছা নয়, প্রতিদিনের সংবাদকে ভালোবাসা জানাই।

"