মুখে লাগাম দিন : ট্রাম্পকে শি

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দুই তরফের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছিল দিনকয়েক আগে। উত্তর কোরিয়া আর আমেরিকা। একে অপরের বিরুদ্ধে কার্যত মৌখিক যুদ্ধ ঘোষণা করেই দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যস্থতায় চীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। এবার খোদ চীনা প্রেসিডেন্ট ফোন করে সংযত থাকার অনুরোধ জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সূত্রে এ খবর জানা গেছে। শি চিনফিং এ-ও বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতাবস্থা আনতে দুদেশের অবিলম্বে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলা বন্ধ করা উচিত। শি জানিয়েছেন, কোরীয় সমস্যার সমাধানে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে সব সময় রাজি বেইজিং।

উত্তর কোরিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার শাস্তি হিসেবে সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে কিছু নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন। গোলমালের সূত্রপাত সেখান থেকেই। উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উন তার পর থেকেই আমেরিকাকে শাসিয়ে আসছেন। খুব সম্প্রতি তিনি সরাসরি মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে পরমাণু হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। যার জেরে পাল্টা হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও। হামলা হলে উত্তর কোরিয়াকে অনুতাপ করতে হবে বলে প্রথমে টুইট করেছিলেন তিনি। কাল ফের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে টুইট করেন তিনি। লেখেন, মার্কিন সেনারাও প্রত্যুত্তর দিতে তৈরি আছেন। তার প্রেক্ষিতেই গতকাল ট্রাম্পকে ফোন করেন শি। ট্রাম্প এখন ছুটি কাটাচ্ছেন। তার মধ্যেই দুজনের বেশ খানিকক্ষণ কথা হয় এ নিয়ে। চীনা সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতাকেও সংযত থাকার অনুরোধ করেছেন শি। জানিয়েছেন, এই ধরনের সমস্যার সমাধানে কূটনীতির বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। অবিলম্বে দুদেশের নেতারা যাতে আলোচনায় বসেন, সেই আর্জিও জানিয়েছেন শি। সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আমেরিকার পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। চিনফিংয়ের পাশাপাশি গতকাল ট্রাম্পের সঙ্গে একই বিষয়ে ফোনে কথা বলেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও।

ট্রাম্প-কিম বিতর্ক পর্বে এত দিন সেভাবে মুখ খোলেনি বেইজিং। অনেকেই অভিযোগ করছিলেন, বন্ধুত্বের খাতিরেই কিমের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করছে না বেইজিং। গত শনিবার চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিকের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল, নিজে থেকে যুদ্ধে গেলে উত্তর কোরিয়ার পাশে থাকবে না বেইজিং। গতকাল আর এক ধাপ এগোলেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

এ বছরের শেষেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। ফোনে গতকাল সে প্রসঙ্গও তুলেছেন শি। আমেরিকা আর চীনের বন্ধুত্ব তাতে আরো দৃঢ় হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। চীনা প্রেসিডেন্টের ফোনের জবাবে ট্রাম্প কী বলেছেন, সরকারিভাবে এখনো জানায়নি হোয়াইট হাউস। তবে চীনা সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, কোরীয় সমস্যা সমাধানে বেইজিংয়ের সদর্থক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।

"