যুদ্ধের দায় নেবে না চীন বার্তা উত্তর কোরিয়াকে

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমেরিকা আগে হামলা চালালে, নিশ্চিতভাবে পাশে দাঁড়াবে চীন। কিন্তু উত্তর কোরিয়াই যদি পায়ে পা লাগিয়ে লড়াইয়ে নামতে চায়, বেইজিংয়ের সে ক্ষেত্রে নিরপেক্ষই থাকা উচিত বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক গ্লোবাল টাইমস।

দুই দেশের মধ্যে উত্তাপ আরো বাড়িয়ে চলতি সপ্তাহেই মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামে মাঝারি ও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দফতর দাবি করেছে, গুয়ামে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে চাইলে মার্কিন মূল ভূখন্ডে পৌঁছতে সেটির সময় লাগবে সর্বোচ্চ ১৪ মিনিট। গুয়ামে হামলার হুমকিতে স্বভাবসিদ্ধভাবেই ফুঁসে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শনিবার তিনি টুইট করে হুশিয়ারি দিয়েছেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে জবাব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি তৈরি মার্কিন সেনারা। আশা করা যায়, কিম জং উন এবার অন্য পথ খুঁজবেন।’ গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ায় মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব জিম ম্যাটিসও বলেছেন, ‘লড়াইয়ের জন্য সব দিক দিয়ে প্রস্তুত পেন্টাগন। তবে কোন পথে হাঁটব, তা আগ বাড়িয়ে শত্রুপক্ষকে জানাতে চাই না।’ এ-ও বলেছেন, ‘যুদ্ধ সব দিক দিয়েই সর্বনাশা।’ তাই আমেরিকা সব সময়েই কূটনৈতিক পথে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংঘাতের সমাধান চায় বলে দাবি করেছেন ম্যাটিস।

চীনও যে যুদ্ধ চায় না, শুক্রবার গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে তার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কখনোই তেমন কড়া প্রতিক্রিয়া মেলেনি বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে। পিয়ংইয়ং প্রথম যখন আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা করে, তখন তা নিয়ে মুখ খুলতে শোনা যায়নি চীনকে। পরে মস্কো সফরে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের সময়েও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, উত্তর কোরিয়া বা আমেরিকা-প্রত্যেক পক্ষের সংযত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তা পরিষদ উত্তর কোরিয়ার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর পরে নড়েচড়ে বসে চীন। কার্যত বাধ্য হয়েই এই নিষেধাজ্ঞায় সমর্থন জানায় বেইজিং। চীন ইচ্ছে করেই উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ করছে না বলে তোপ দাগেন ট্রাম্পও।

মার্কিন কূটনীতিকদের একাংশ গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তেও গা-ছাড়া মনোভাবই দেখছে চীনের। সরাসরি মুখ তো খোলেইনি, বরং বিবদমান দুপক্ষকেই সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, চীনের স্বার্থে আঘাত লাগলে তবেই শক্ত হাতে তার মোকাবিলা করবে চীনা সেনা। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ‘উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র যদি প্রথমে আমেরিকার ওপর আঘাত হানে এবং আমেরিকা তার বদলা নেয়, তা হলে চীনের নিরপেক্ষই থাকা উচিত। কিন্তু যদি দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকা যৌথ আক্রমণ চালিয়ে উত্তর কোরিয়া তথা কোরীয় উপদ্বীপের রাজনৈতিক মানচিত্রে বদল আনার চেষ্টা করে তবে চীন তাতে বাধা দেবে।’ চীনের মতে, দুপক্ষই এক ‘বেপরোয়া খেলায়’ জড়িয়ে পড়েছে যার পরিণতিতে রয়েছে ভয়ংকর যুদ্ধের আশঙ্কা। প্রশ্ন উঠছে, চীনের এই অবস্থানে দুই মিত্র দেশের সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? কূটনৈতিকরা জানাচ্ছেন, ‘১৯৬১ সালে চীন-উত্তর কোরিয়ার মধ্যে হওয়া পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তি অনুযায়ী, পিয়ংইয়ংয়ের ওপর প্ররোচনা ছাড়া হামলা হলে তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে চীন। কিন্তু উত্তর কোরিয়া যুদ্ধের পথে হাঁটলে বেইজিং তাতে ঢুকতে বাধ্য নয়।’

"