নিজের হাতেই কর্তৃত্ব রাখছেন নওয়াজ

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সরগরম পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গন। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পরে ‘সিংহাসনের’ দাবিদার কে হবেন, তা নিয়ে পানি ক্রমেই ঘোলা হচ্ছে। ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে শাসক দল পিএমএলের (এন) ভবিষ্যৎ ঘিরেও।

পানামা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নওয়াজ সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও শাসকদলের ‘শেষ কথা’ তিনিই। গত মঙ্গলবার পাক নির্বাচন কমিশনের জারি করা একটি নোটিসে সেই অঙ্ক বদলে যেতে পারে-এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। নোটিসে বলা হয়েছে, আর্থিক দুর্নীতিতে দোষী সাব্যস্ত নওয়াজ আর দলের প্রধান থাকতে পারবেন না। খারিজ হয়ে যাবে তার আইনসভার সদস্যপদও। সেই ঘোষণার পরে ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই দলের নতুন প্রধান হিসেবে ভাই শাহবাজের নাম ঘোষণা করলেন নওয়াজ। পাশাপাশি, এদিন দলের একটি সূত্রের খবর, ২০১৮ সালে পরবর্তী নির্বাচনের আগে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী পদে শাহিদ খকন আব্বাসিকেই দেখতে চান নওয়াজ। অন্তত দলীয় বৈঠকে সেই ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি। পাক-পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, ৬৫ বছরের শাহবাজ ভাইয়ের সিদ্ধান্তকে শিরোধার্য করে নওয়াজের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর তাতেই বিরোধী শিবিরের সন্দেহ, তবে কী ক্ষুব্ধ ভাইকে তুষ্ট করতে নওয়াজের এটা নতুন চাল? কথা ছিল, নওয়াজের পরে প্রধানমন্ত্রী হবেন ভাই শাহবাজ শরিফ।

তবে শাহবাজ আইনসভার নিম্নকক্ষের সদস্য না হওয়ায় প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়, নিয়মমতো তিন মাস পরে নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হবেন শাহবাজ। তত দিন আব্বাসি দেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু আব্বাসি ক্ষমতায় আসার পরে মত পাল্টান নওয়াজ। ঘনিষ্ঠ মহলে জানান, প্রধানমন্ত্রী পদে শাহবাজকে আনা দলের পক্ষে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নাও হতে পারে। অনেকে আবার বলছেন, শাহবাজ এখন পাক-পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রধানমন্ত্রী হলে দলের শক্ত ঘাঁটি পাঞ্জাব হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই নওয়াজ মত বদলেছেন।

কিন্তু বিরোধীদের মত, নওয়াজের এই সিদ্ধান্তের আড়ালে কাজ করছে পারিবারিক রাজনীতির পুরনো ছক। ভবিষ্যতে মেয়ে মরিয়মের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সিংহাসন কণ্টকমুক্ত রাখতে চান নওয়াজ। তাই ভবিষ্যতের দাবিদার শাহবাজকে সরিয়ে ‘দলের অনুগত কর্মী’ আব্বাসিকেই প্রধানমন্ত্রী রাখতে চান তিনি। পরিবর্তে শাহবাজকে দলের প্রধানের পদ দিয়ে তুষ্ট করতে চান। যাতে সাপ মরে আবার লাঠিও না ভাঙে।

"