ভারতের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও প্রতিরক্ষা খাতে একসঙ্গে কাজ করবে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন হাউস অব রি-প্রেজেনটেটিভে এ-সংক্রান্ত একটি বিল পাস করা হয়েছে।

মোট ৬২১.৫ বিলিয়নের ডিফেন্স পলিসি বিল পাস করা হয়েছে। এর ফলে ভারত ও আমেরিকা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একে-অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলতে পারবে। এ ব্যাপারে মার্কিন কংগ্রেসম্যান অ্যানি বেরা জানিয়েছেন, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক শক্ত হওয়া জরুরি। ভারতে অস্ত্র রফতানির শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। ২০০৭ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধাস্ত্র রফতানি করা হয়েছে। পেছনে ফেলে দিয়েছে রাশিয়াকেও। এ ছাড়া সামনে আছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্স ডিল। ভারতকে মেজর ডিফেন্স পার্টনার হিসেবে চিহ্নিত করেছে আমেরিকা। প্রযুক্তি আদান-প্রদানও করছে। কিছুদিনের মধ্যে ভারতে আসছে মার্কিন গার্ডিয়ান ড্রোন। এ ছাড়া এফ-১৬ ও এফএ-১৮ ফাইটার জেটও বিক্রি করবে ভারত।

মার্কিন সাহায্যে নানা শর্ত পাকিস্তানকে : অনেক হয়েছে। তবে আর বরদাশত নয়। প্রতিরক্ষা বাবদ অর্থসাহায্য দেওয়ার আগে তাই পাকিস্তানকে বেশ কিছু শর্ত দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে অন্যতম হলো নিজেদের ভূখন্ড থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে ইসলামাবাদকে। গত শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের অধিবেশন বসেছিল। সেখানেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় প্রতিরক্ষা অনুমোদন আইনের আওতায় প্রতিরক্ষা খাতে ৬৫ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছে আমেরিকা। যার মধ্যে চলতি আর্থিক বছর, অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইসলামাবাদকে ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সাহায্য দেওয়া হবে বলে স্থির হয়েছে। তবে ইসলামাবাদের হাতে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দেওয়ার আগে তাতে তিনটি সংশোধনের প্রস্তাব পেশ করেন কংগ্রেস সদস্য ডেনা রোহরাবশের এবং টেড পো। তাতে বলা হয়, সন্ত্রাস দমনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসলামাবাদ। কিন্তু কথার খেলাপ করেছে তারা। দেখা যাচ্ছে, আজও সন্ত্রাসবাদে পূর্ণ আস্থা রয়েছে তাদের। তাই জাতীয় নিরাপত্তা বাবদ তাদের যে পরিমাণ অর্থ দেওয়ার কথা স্থির হয়েছে, তাতে সংশোধন আনা প্রয়োজন। পাকিস্তানের হাতে অর্থ তুলে দেওয়ার আগে প্রতিরক্ষা সচিবকে নিশ্চিত করতে হবে যে, সন্ত্রাস দমন অভিযানে ইসলামাবাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সীমান্তপাড়ে হামলা প্রতিরোধ করতে এবং শক্তিশালী বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে তারা। উত্তর ওয়াজিরিস্তান থেকে হাক্কানি নেটওয়ার্ককে নির্মূল করবে বলে এর আগেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইসলামাবাদ। আফগানিস্তান সীমান্তে জঙ্গিদের উৎখাত রুখবে বলে জানিয়েছিল। সেগুলো ঠিকমতো পালন হচ্ছে কি না তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। তবেই জাতীয় নিরাপত্তা বাবদ নির্ধারিত ৪০ হাজার কোটি ডলার তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদের গোপনা আস্তানায় হানা দিয়ে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে খতম করে মার্কিন নৌসেনার একটি দল। মার্কিন সরকারকে তার হদিস দিয়েছিলেন ডা. শাকিল আফ্রিদি নামে এক পাক নাগরিক। সম্মানিত করার বদলে তাকে জেলবন্দি করে রেখেছে ইসলামাবাদ। তার মুক্তির দাবি তুলেছেন ডেনা রোহরাবশের। তিনি বলেছেন, ‘ডা. শাকিল আহমেদ আন্তর্জাতিক নায়ক। শুধু পাকিস্তান বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা দুনিয়া ওর কাছে কৃতজ্ঞ। কত শত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে দিয়েছেন উনি। অবিলম্বে তার মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ সভায় উপস্থিত ৩৪৪ সদস্য এ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন। বিরোধিতা করেন মাত্র ৮৮ জন।

"