কিউবা চুক্তি বাতিল ট্রাম্পের

সম্মানজনক আলোচনা অব্যাহত রাখবে কিউবা

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজের নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই হুমকিটা দিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত যা বলেছিলেন, করেই ফেললেন। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে কিউবার সঙ্গে যে সৌহার্দ্য-চুক্তি করেছিলেন বারাক ওবামা, গতকাল তা বাতিল করে দিলেন তার উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবা নীতি আরো কঠোর করার সিদ্ধান্তকে কিউবা-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে একটি নেতিবাচক আচরণ হিসেবে দেখছে হাভানা সরকার। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করছেন তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গতকাল গিয়েছিলেন মায়ামির লিটল হাভানাতে- দেশছাড়া কিউবানদের এক সভায়। সেখানেই তিনি বলেছেন, ‘আগের প্রশাসনের সম্পূর্ণ একতরফা ওই চুক্তি আমি এই মুহূর্তে বাতিল করে দিচ্ছি।’ তার অভিযোগ, রাউল কাস্ত্রোর প্রশাসনের সঙ্গে ওবামা ওই চুক্তি করার পরে কিউবায় ‘নিষ্ঠুর’ কমিউনিস্ট শাসনের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। বেড়েছে হিংসা ও অস্থিরতা।

ট্রাম্প জানান, কিউবাকে আগে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। আমেরিকার আইনের হাত থেকে পলাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রত্যর্পণ করতে হবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেশে অবাধ নির্বাচন করতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাস্ত্রোর দেশের সঙ্গে নয়া চুক্তি করবে না আমেরিকা। মার্কিন সংস্থাগুলোও কিউবার ‘সামরিক সরকার-চালিত’ সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে না। পাশাপাশি, কিউবার সেনাকে যেসব মার্কিন নাগরিক টাকা পাঠান বলে অভিযোগ, তাদের এবার ধরপাকড়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন ট্রাম্প।

ওবামার উদ্যোগে ৫৪ বছর পর হাভানায় খুলেছিল মার্কিন দূতাবাস। সেই দূতাবাস অবশ্য বন্ধ করছেন না ট্রাম্প। বন্ধ হচ্ছে না বাণিজ্যিক ফ্লাইট ও জাহাজ চলাচল। কিন্তু তাতেও থাকছে নিয়মের ফাঁস। মার্কিন সরকারের অনুমোদিত কারণ ছাড়া কেউ কিউবায় গেলে ট্রেজারি অডিটের মুখে পড়তে হতে পারে তাকে। ট্রাম্প বলেন, ‘ওরা লড়ে সব আদায় করেছিল। আর আমরা লড়তেই পারিনি। কিন্তু আজ তাস আমাদের হাতে।’ এদিকে, শুক্রবার রাতে জাতীয় টেলিভিশনে কিউবান সরকারের এক বিবৃতি সম্প্রচার করা হয়। এতে এমন কথা বলা হয়েছে বলে জানাচ্ছে, বার্তা সংস্থা। কিউবার পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রাম্পের এ ধরনের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও কিউবা সরকার দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্মানজনক আলোচনা অব্যাহত রাখবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবা নীতি আরো কঠোর করার সিদ্ধান্তকে কিউবা-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একে একটি নেতিবাচক আচরণ হিসেবে দেখছে হাভানা সরকার। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে তারা। শুক্রবার রাতে জাতীয় টেলিভিশনে কিউবান সরকারের এক বিবৃতি সম্প্রচার করা হয়। এতে এমন কথা বলা হয়েছে বলে জানাচ্ছে বার্তা সংস্থা। কিউবার পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রাম্পের এধরনের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও কিউবা সরকার দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্মানজনক আলোচনা অব্যাহত রাখবে।

এর আগে, কিউবার সঙ্গে প্রায় দুবছর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা চুক্তি বাতিল করে দেওয়ার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে কাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে নতুন কিউবা নীতির ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। জানা গেছে, ওবামার করা চুক্তিটিকে ‘এক তরফা’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘কমিউনিস্টদের করা নিগ্রহ দেখে যুক্তরাষ্ট্র চুপ করে থাকবে না।’ এ ছাড়া কিউবার ওপরে ভ্রমণ ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরো কঠোর হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

"