রাশিয়ার দূতের সঙ্গে ‘গোপন’ বৈঠক : অস্বীকার সেশনসের

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে গোপন বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের এক শুনানিতে এই মার্কিন শীর্ষ আইন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথাবার্তা-বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দিতেও রাজি হননি বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন রিপাবলিকান শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ নিয়ে কংগ্রেসে সিনেট ইন্টিলিজেন্স কমিটির ওই শুনানি চলছে।

মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলেছে, গত বছরের ২৭ এপ্রিল ওয়াশিংটনের মেফ্লাওয়ার হোটেলে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গোপনে দেখা করেছিলেন জেফ। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্বীকারও করেছেন জেফ। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকার ‘গোপনে’ হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।

ওই সময়ের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মেফ্লাওয়ার হোটেলের হওয়া ২৭ এপ্রিলের অনুষ্ঠানে না অন্য কোথাও রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার দেখা হয়েছে তা মনে করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি দাবি করেছেন, ওই হোটেলে কিসলিয়াকের সঙ্গে তার ‘হয়তো দেখা হয়েছিল’ কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো বৈঠক হয়নি এবং হোটেলটিতে রাশিয়ার কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কোনো আলাপচারিতার কথা তিনি মনেও করতে পারছেন না। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনালের জেফ বলেন, ক্রেমলিনের সঙ্গে তার আঁতাতের বিষয়ে যেকোনো ইঙ্গিত ‘সাংঘাতিক ও জঘন্য মিথ্যাচার।’ এমন ‘কুৎসিত ও মিথ্যা অভিযোগ’ এর বিরুদ্ধে সম্মান বাঁচাতে লড়ে যাবেন বলেও অঙ্গীকার করেছেন তিনি। ‘নির্বাচনী প্রচার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো রুশ বা বিদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে আমার দেখা বা কথা হয়নি’, শুনানিতে এমনটাই বলেন নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই সহচর।

তবে এসব কথা বলার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কথাবার্তার বিষয়ে করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বারবার অস্বীকার করেন সেশনস। এর আগে একই কমিটির সামনে ট্রাম্প কর্তৃক বরখাস্ত এফবিআই প্রধান জেমস কোমি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব বিষয়ে তদন্ত করার কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তার ধারণা। অ্যাটর্নি জেনারেল সেশনসের পরামর্শেই কোমিকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও বিশ্বাস, ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ার পেছনে রাশিয়ার হাত আছে।

"