কুলভূষণ মামলায় তোপের মুখে নওয়াজরা

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঘরে-বাইরে চাপের মুখে নওয়াজ শরিফের সরকার। একদিকে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বিরুদ্ধে গেছে। ভারতীয় নৌ-সেনার সাবেক আধিকারিক কুলভূষণ যাদবের মৃত্যুদন্ডে স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে। আর অন্যদিকে তার জেরে ঝড় উঠে গেছে পাকিস্তানের অন্দরে। পাক সংবাদমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে বিদেশমন্ত্রী তথা সরকারের। নওয়াজ শরিফের সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় মানতে পাকিস্তান বাধ্য নয়, কারণ জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়ে রায় দেওয়ার অধিকার আন্তর্জাতিক আদালতের নেই। পাক সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন, কুলভূষণ মামলায় হস্তক্ষেপ করার অধিকারই যখন নেই আন্তর্জাতিক আদালতের, তখন সে মামলায় পাকিস্তান প্রতিনিধি পাঠাল কেন? পাকিস্তানের প্রায় সব সংবাদমাধ্যমেই সে দেশের সরকারের সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভারত কুলভূষণ যাদবের মামলাটিকে আন্তর্জাতিক আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান যতগুলো পদক্ষেপ করেছে, সবই ভুল-বলছেন পাক বিশেষজ্ঞরাই।

প্রখ্যাত পাক সংবাদপত্র ‘ডন’-এর ওয়েবসাইটকে সে দেশের এক অবসরপ্রাপ্ত জজ শইক উসমানি জানিয়েছেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতে হাজির হয়েই পাকিস্তান ভুল করেছে, সেখানে যাওয়াই উচিত হয়নি পাকিস্তানের।’

উসমানির মন্তব্য, পাকিস্তান নিজের পায়েই কুড়াল মেরেছে। লন্ডন প্রবাসী পাক আইনজীবী রশিদ আসলাম আবার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক আদালতে ঠিকমতো সওয়ালই করতে পারেননি। পাক সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে নিজেদের বক্তব্য জানানোর জন্য যে ৯০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল, তা পাকিস্তান কাজে লাগাতে পারেনি। রশিদ আসলামের কথায়, ‘পাকিস্তানকে ৯০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল সওয়াল করার জন্য। তার মধ্যে ৪০ মিনিটই পাকিস্তান নষ্ট করেছে। আমি অবাক হয়ে গেছি, এত অল্পেই কেন আমরা আমাদের সওয়াল শেষ করে দিলাম।’

পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল পিপিপির নেত্রী শেরি রহমানও পাক সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক আদালতে নিজেদের অবস্থান ঠিকমতো তুলে ধরতেই পারেননি বলে শেরি রহমানের দাবি। তার কথায়, ‘আমরা শুধু আদালতের এখতিয়ার-সংক্রান্ত বিষয়েই সওয়াল সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম এবং প্রমাণিত হলো যে, সেই সওয়াল দুর্বল ছিল।’ কুলভূষণ যাদবের ‘চরবৃত্তি’-সংক্রান্ত তথ্য আরো বেশি করে আন্তর্জাতিক আদালতের সামনে তুলে ধরা উচিত ছিল বলে মত পিপিপি নেত্রীর।

মুখ বাঁচাতে ইসলামাবাদ অবশ্য এখন বলছে, আন্তর্জাতিক আদালতের এই নির্দেশ মানতে তারা বাধ্য নয়। কুলভূষণ যাদবের মামলা পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয় এবং এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক আদালতের নেই। বক্তব্য পাক সরকারের। এ কথা যদি জানাই ছিল যে কুলভূষণ মামলায় হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার আন্তর্জাতিক আদালতের নেই, তাহলে সে মামলায় পাকিস্তান অংশ নিল কেন? প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তানেই।

"