রাশিয়া, কোমি এখন ট্রাম্পের জোড়া অস্বস্তি

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোজ যেন একের পর এক বোমা! কেউ কেউ আবার বলছেন, হোয়াইট হাউসে নিত্যনতুন নাটক। কাল ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা নথি ফাঁসের অভিযোগ। গতকাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ : তিনি এফবিআইয়ের সাবেক অধিকর্তা জেমস কোমিকে অনুরোধ করেছিলেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে নিয়ে তদন্ত বন্ধ করে দিতে। কোমিরই লেখা এক নথি থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।

মুখ না খুললেও কোমির নথি নিয়ে বিতর্ক ছড়াতেই ট্রাম্প গত বুধবার বলেন, ‘ইতিহাসে আর কোনো রাজনীতিবিদকে এতটা খারাপ বা অন্যায্যভাবে দেখা হয়নি।’ যে সূত্র কোমির ওই নথি সামনে এনেছে, তাদের দাবি, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ফ্লিনকে নিয়ে তদন্ত বন্ধ করার কথা কোমিকে বলেছিলেন ট্রাম্প। ঠিক তার আগের দিন পদত্যাগ করেছেন ফ্লিন। বৈঠকে সেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবে প্রচ- হতভম্ব হয়ে যান তদানীন্তন এফবিআই অধিকর্তা। তখনই তিনি বিষয়টি একটি নথিতে (মেমো) লিপিবদ্ধ করে রাখেন।

সেই নথিতে রয়েছে, ট্রাম্প কোমিকে বলেছেন, ‘উনি (মাইকেল ফ্লিন) ভালো লোক। আমার মনে হয়, এটা আপনি ছেড়ে দিতেই পারেন!’ কোমি তদন্ত প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য না করে শুধু বলেন, ‘হ্যাঁ মানছি উনি ভালো লোক।’ কোমিকে প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ফ্লিন কোনো ভুল করেননি। ঘটনা হলো, ট্রাম্প শপথ নেওয়ার আগে আমেরিকায় রুশ দূত সের্গেই কিসলিয়াকের সঙ্গে ফ্লিনের ফোনে কী কথা হয়েছিল, তা নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কাছে সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হন ফ্লিন। সূত্রের দাবি, কোমির মনে হয়েছিল, ট্রাম্প গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াই থামাতে চেয়েছিলেন।

দুদিন আগেই এক মার্কিন দৈনিক দাবি করে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের বৈঠকে রুশ বিদেশমন্ত্রীর কাছে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা-নথি ফাঁস করে দেন ট্রাম্প। তার পরই কোমির এই নথি প্রকাশ্যে আসায় হোয়াইট হাউসে বিড়ম্বনা ক্রমেই বাড়ছে। আজও হোয়াইট হাউসের পক্ষে বলা হয়েছে, ওই অভিযোগ সত্যি নয়। এ বিতর্কের আবহে ট্রাম্পের ‘বন্ধু’ বলেই পরিচিত রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার দেশের বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে আলোচ্য বিষয়ের প্রতিলিপি প্রকাশ করতে তারা প্রস্তুত। কারণ দুজনের মধ্যে ‘নীতি-বিরুদ্ধ’ কোনো কথা হয়েছে, বিশ্বাস করেন না তিনি। রসিকতা করে পুতিন বলেন, ‘সত্যি বলছি, লাভরভ আমাকেও বলেননি, ট্রাম্পের সঙ্গে তার কী কথা হয়েছিল!’

"