যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় কৃষ্ণাঙ্গরা কেন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে?

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের হার তুলনামূলক বেশি। বিষয়টিকে অনেকেই সহজভাবে নিয়েছেন। শিকাগো, নিউ অরলিন্স, লাস ভেগাস শহর, ম্যারিল্যান্ড ও সাউথ ক্যারোলাইনা শহর এখন জাতিসত্ত্বার ভিত্তিতে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য আলাদা করে প্রকাশ করছে। এসব স্থানে কৃষ্ণাঙ্গদের আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে বহুকাল ধরে চলে আসা বৈষম্য তাদের অধিক হারে আক্রান্ত হওয়ার একটি অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। তবে এর বাইরেও সম্ভাব্য কিছু কারণে কৃষ্ণাঙ্গরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে ভিন্ন ভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া তিনজনের ঘটনা এখানে তুলে ধরা হলোÑ

শিকাগোর একটি গির্জার রেভারেন্ড মার্শাল হ্যাচের ৭৩ বছর বয়সি বড় বোন রোডা হ্যাচ ৪ এপ্রিল আট দিন হাসপাতালে থাকার পর মারা যান। এর দুই দিন আগে রেভারেন্ড হ্যাচের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ল্যারি হ্যাচও মারা যান কোভিড-১৯ এ। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। গত কয়েকদিনে রেভারেন্ড হ্যাচের খুব কাছের চারজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার বাড়ি ওয়েস্ট গারফিল্ড পার্কÑ যেখানে মূলত আফ্রিকান আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গদের বসবাস সেখানকার অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন।

রেভারেন্ড হ্যাচ বলেন, ‘আমার বোনকে কবর দেওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে।’ আদমশুমারির তথ্যানুযায়ী ওয়েস্ট গারফিল্ড পার্কের মানুষের গড় আয়ু মাত্র তিন মাইল দূরত্বে থাকা শ্বেতাঙ্গ এলাকার মানুষের তুলনায় ১৬ বছর কম। প্রকাশিত তথ্যে উঠে আসে, শিকাগো শহরে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া মানুষের ৬৮ শতাংশ আফ্রিকান আমেরিকান, যেখানে পুরো শহরের জনসংখ্যার মাত্র ৩০ শতাংশ তারা। তার ওপর দারিদ্র্য ও বৈষম্যের কারণে ওয়েস্ট গারফিল্ড পার্কের অনেকেরই স্বাস্থ্য বিমা নেই। অনেকেই অস্বাস্থ্যকর বাসস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা খুবই কঠিন।

নিউ অরলিন্সের ২৪ বছর বয়সি ক্ল্যারিওন্টা জোনস প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হয়, এমন একটি দোকানে কাজ করেন। তাই চাইলেও কাজ থেকে ছুটি নিতে পারছেন না তিনি। তার ভাষায়, ‘দোকানে যেসব ক্রেতা আসেন, তাদের কারো মধ্যে কোনো ধরনের রোগ আছে কি-না, আপনি জানেন না। আমার পরিবারে একমাত্র আমিই উপার্জনকারী সদস্য। তার ওপর যখন আশপাশের অনেকেই চাকরি হারাচ্ছেন, আমার বাড়িতে এপ্রিলের ভাড়া দেওয়ার জন্য তাগাদা দেওয়া শুরু করেছেন বাড়িওয়ালা। এই পরিস্থিতিতে আমি যদি অসুস্থও হই, আমি কোনো একটা ওষুধ খেয়ে কাজ চালিয়ে যাবো। আমার দুটি সন্তান আছে। আমি এই পরিস্থিতিতে বেতন হারাতে চাই না।’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ায় চাকরি হারাতে হচ্ছেÑ সারা বিশ্বের সব জায়গাতেই নিম্নআয়ের এ রকম অনেক মানুষ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ‘কৃষ্ণাঙ্গ বা তামাটে বর্ণের মানুষের হার অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি।

ক্লারিওন্টা শুরুতে ধারণা করেছিলেন যে, কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে করোনাভাইরাস ছড়ায় না। শুধু নিউ অরলিন্সেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক জায়গাতেই এই গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, যা বিশ্বাস করেছিলেন আফ্রিকান আমেরিকানদের অনেকেই।

কৃষ্ণাঙ্গরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন না, এই গুজব ছড়িয়ে পড়ায় ভয়াবহ বিপদে পড়েন উইসকনসিন রাজ্যের মিলওয়াকি শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ডাক্তার জিনেট কোয়ালিক।

 

"