পদত্যাগ করতে হচ্ছে ইমরান খানকে?

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের বিরোধী দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার এই গণসমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী ইমরানকে পদত্যাগের জন্য দুই দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ডানপন্থি জামিয়াত উলামা-ই-ইসলাম ফজলের নেতা মাওলানা ফজলুর রেহমান আজাদি মার্চ নামের এই বিশাল সমাবেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সমাবেশের সপ্তম দিন গত বৃহস্পতিবার এই নেতা ইমরান খানের পদত্যাগ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতি করে ক্ষমতায় এসেছে ইমরানের দল। হাজার হাজার মানুষ ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই বিক্ষোভে দেওয়া এক বক্তৃতায় মাওলানা ফজলুর রেহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যদি পদত্যাগ করতে না চান তবে সরকারি দলের প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য আসার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসার কোনো দরকার নেই। যখন আপনারা আমাদের কাছে আসবেন তখন অবশ্যই ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই আসতে হবে। আপনারা একেবারে শেষ সীমানায় পৌঁছে গেছেন। এখন আপনাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনারা ক্ষমতায় থাকবেন নাকি সাধারণ জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন।

অপরদিকে, বিরোধী রাহবার কমিটি বলছে, তারা সরকারের ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে। জামিয়াত উলামা-ই-ইসলাম ফজলের নেতা আকরাম খান দুররানি বলেন, আজাদি মার্চ নতুন দিকে যাবে। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা স্থির করেছেন যে তারা এভাবেই সমাবেশ চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে তারা তিন মাস সড়কেই অবস্থানের ইচ্ছা পোষণ করেছেন। পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা ফারহাতুল্লাহ বাবর বলেছেন, বিরোধীরা সরকারকে চাপে রেখেছে। আর এই আজাদি মার্চ হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপ।

ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি দলের প্রতিনিধি হিসেবে মাওলানা ফজলুর রেহমানের সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছেন পাঞ্জাবের বিধানসভার স্পিকার চৌধুরী পারভেজ এলাহি। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কি করা যায় সে বিষয়েই আলোচনা করেছেন তারা।

এদিকে, পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এই আজাদি মার্চের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। ইসলামাদের এই সরকারবিরোধী সমাবেশ সরকারকে বেশ চাপের মধ্যেই রেখেছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এর আগে বলেছেন, তিনি বিরোধীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করবেন না। তবে এবার তাকে যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে তারপর তার সরকার কি সিদ্ধান্ত নেবে বা বিরোধী দলগুলোই সরকারের বিরুদ্ধে কেমন অবস্থানে যাবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।

"