হাজার কিলোমিটার দূরে কাশ্মীরি বন্দিরা

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর সেখানে প্রায় ৩০০ জন নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেফতার হন। যাদের বেশির ভাগকেই হাজার কিলোমিটার দূরে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতারদের তালিকায় উজির মকবুল মালিকের মতো ১৯ বছরের নির্মাণ শ্রমিক যেমন আছেন, তেমনি রয়েছেন নাজির আহমেদ রনগার মতো কাশ্মীরের সুপরিচিত আইনজীবীও।

জননিরাপত্তা আইনের (পিএসএ) অধীনে গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিনা বিচারে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত আটকে রাখা যায়। ভারত সরকার গত ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটি কেন্দ্রশাসিত দুটি আলাদা অঞ্চলে ভাগ করার ঘোষণা দেয়। ঘোষণার আগে ও পরে বিশৃঙ্খলা ও উসকানি প্রতিরোধের নামে কাশ্মীরের বেশির ভাগ নেতাকে গৃহবন্দি করা হয়। এ ছাড়াও নানা অভিযোগে আরো প্রায় ৪ হাজার মানুষকে আটক করে পুলিশ।

যদিও তাদের ধীরে ধীরে মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু পিএসএর অধীনে কাশ্মীর বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রধান নাজির আহমেদের মতো আরো অনেক আইনজীবী, শিক্ষক এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কী করা হবে তা এখনো অনিশ্চিত। বাড়ি থেকে হাজার কিলোমিটার দূরের কারাগারে আটকে রাখার কারণে বন্দিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে বা তারা কি অবস্থায় আছেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্যই পাচ্ছেন না।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের দাবি, আগস্ট থেকে নয় বরং গত বছর থেকেই কাশ্মীরি বন্দিদের অন্যান্য রাজ্যের কারাগারে সরিয়ে নেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল। জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ছিন্ন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আগস্ট থেকে বন্দি সরিয়ে নেওয়ার গতি দ্রুত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তারা। বন্দিদের পরিবারের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই বন্দিদের অন্য রাজ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্ধকারে হাতড়ে বন্দিদের মধ্যে থাকা স্বজনদের সন্ধান পেলেও তাদের সঙ্গে সামান্য যোগাযোগই করতে দেওয়া হয়।

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর কারফিউ জারি করে কাশ্মীরের টেলিফোন সেবা, মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সামান্য উন্নতি হলেও তা এখনো সাধারণের হাত আসেনি। যে কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্দোষ দাবির প্রমাণপত্র জোগাড় ও উপস্থাপনও কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ পরিবারের। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সঞ্জয় ধর রয়টার্সকে বলেন, কাশ্মীরের প্রধান নগরী শ্রিনগরে দুজন বিচারককে গত ৫ আগস্ট থেকে পিএসএর অধীনে বন্দি প্রায় ৩০০ মামলা পরিচালনা করতে হচ্ছে।

উত্তর প্রদেশের অন্তত ছয়টি কারাগারে কাশ্মীরি বন্দিদের রাখা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় কর্মকর্তারা। মালিকের পরিবার জানায়, তাকে আরো ৮৪ বন্দির সঙ্গে উত্তর প্রদেশের আগ্রা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ৬৭ বছরের আইনজীবী রনগাকে গত ৯ আগস্ট গ্রেফতারের পর প্রথমে স্থানীয় একটি থানায় আটকে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে শ্রিনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে পুলিশ। রনগার ছেলে উমর (যিনি নিজেও একজন আইনজীবী) এক সপ্তাহ চেষ্টার পর বাবাকে খুঁজে পান বলে জানান। কিন্তু সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ বাবাকে দেখতে শ্রিনগর কারাগারে গিয়ে উমর জানতে পারেন তিনি সেখানে নেই, তাকে উত্তর প্রদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

"