সৌদিতে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে ‘উদ্বেগ’ নেটোপ্রধানের

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি আরবের তেল শিল্পক্ষেত্রে হামলার পর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর শীর্ষ কর্মকর্তা জেন্স স্টলটেনবার্গ। ইরান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকেই ‘অস্থিতিশীল করে তুলছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি, জানিয়েছে বিবিসি। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সৌদির তেলশিল্পের কেন্দ্রস্থলে ‘নজিরবিহীন’ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে।

ওয়াশিংটন হামলার দায় ইরানকে দিলেও তেহরান প্রথম থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি হামলাটিকে ‘ইয়েমেনি জনগণের পাল্টা আঘাত’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। গত শনিবার হামলার পরপরই ইয়েমেনের ইরান ঘনিষ্ঠ হুতিরা এর দায় স্বীকার করে। কিন্তু হামলার মাত্রা, ব্যাপকতা ও লক্ষ্যস্থলে নির্ভুল আক্রমণের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের ওই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে।

ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটেরও ধারণা, হামলার অস্ত্র তেহরানই সরবরাহ করেছে। একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘এ ধরনের হামলা ঠেকাতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা; কারণ এ ধরনের হামলা পুরো অঞ্চলের জন্য নেতিবাচক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’

হুতিরা এর আগেও সৌদি আরবের ভূখ-ে, এমনকি তাদের তেল সরবরাহের পাইপলাইনেও হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর তুলনায় এবারের হামলাটি অনেক বড়। এবারের হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগার ও সৌদির অন্য একটি তেলক্ষেত্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো পরিচালিত দুটি তেল প্লান্টে চালানো এ হামলায় সৌদির দৈনিক তেল উৎপাদন কমে অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। তাতে বিশ্বের তেলের সরবরাহ ৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত প্লান্ট দুটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করলেও ঘটনার বিষয়ে জ্ঞাত দুটি সূত্র ‘কয়েক মাস লেগে যেতে পারে’ বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন। যে দুটি প্লান্টে হামলা হয়েছে, তার মধ্যে খুরাইস তেল ক্ষেত্রটি ইয়েমেনি সীমান্ত থেকে ৭৭০ কিলোমিটার দূরে; আবকাইকের দূরত্ব এর চেয়েও বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত প্লান্ট দুটিতে ১৯টি ‘পয়েন্ট অব ইমপ্যাক্ট’ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা, যা থেকে হামলাটি ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মিশেলে চালানো হয়েছে বলে ধারণা তাদের।

হামলাটি ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো থেকে করা হয়নি, এমন ধারণাও প্রকাশ করেছেন তারা। ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি তেল শিল্পক্ষেত্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত; অন্যদিকে হামলাটি হয়েছে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে, জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। সে রকমটা হলে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ছোড়া হয়েছে উপসাগরের উত্তরে, ইরান কিংবা ইরাক থেকে। হামলার দিক সম্বন্ধে ধারণা দিলেও মার্কিন কর্মকর্তারা এখনো এ সম্পর্কিত অকাট্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

 

"