যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা পৌঁছে দেবে হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা ১৪ সপ্তাহে গড়িয়েছে হংকংয়ের চীনবিরোধী বিক্ষোভ। এরই মধ্যে এ গণবিক্ষোভ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি চীন সফরে হংকং সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বেইজিংয়ের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল। এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা। গত রোববার মার্কিন কনস্যুলেটে হাজির হয়ে এ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার গত শনিবার চীন সরকারকে হংকংয়ে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে বেইজিং সফরে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেন, আমি সহিংসতা ছাড়াই সংঘাত নিরসনের পক্ষপাতী। এর বাইরে অন্য যেকোনো কিছুই আমার কাছে বিপর্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে।

চীন সফরে হংকং পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলায় জার্মান নেতার প্রশংসা করেছেন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট জোশুয়া উং। তবে তিনি মনে করেন এ বিষয়ে আরো ম্যার্কেলের আরো বলার সুযোগ ছিল। একটি জার্মান সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোশুয়া উং বলেন, আমরা যে বিশ্বজনীন মূল্যবোধে বিশ্বাস করি জার্মানির বাণিজ্যিক স্বার্থ তাকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। জার্মান চ্যান্সেলর যদি কিছু করতে চান তবে তাকে অবশ্যই চীনা প্রেসিডেন্টকে হংকংয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানাতে হবে। হংকংয়ের বিক্ষোভকারীরা চাইছে, জার্মানির পর এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য পশ্চিমা দেশগুলোও এ ইস্যুতে কথা বলুক।

এক সময়কার ব্রিটিশ কলোনি হংকং এখন চীনের অংশ। ‘এক দেশ, দুই নীতি’-এর অধীনে কিছু মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে হংকং। অঞ্চলটির নিজস্ব বিচার ও আইন ব্যবস্থা রয়েছে, যা মূল চীনের চেয়ে ভিন্ন। গত ৯ জুন থেকে সেখানে কথিত অপরাধী প্রত্যর্পণ বিল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, ওই বিল অনুমোদন করা হলে ভিন্ন মতাবলম্বীদের চীনের কাছে প্রত্যর্পণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। লাখো মানুষের উত্তাল গণবিক্ষোভের মুখে এক পর্যায়ে ওই বিলকে ‘মৃত’ বলে ঘোষণা দেন হংকংয়ের চীনপন্থি শাসক ক্যারি ল্যাম।

তবে এতে আশ্বস্ত হতে না পেরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে সেখানকার নাগরিকরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হংকংয়ের স্বাধীনতা, বৃহত্তর গণতন্ত্র ও চীনের নিযুক্ত নির্বাহী প্রধানের পদত্যাগের দাবি।

 

"