রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে অস্ট্রেলিয়ার চাপ

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে এটা নিশ্চিত করতে ওই দেশটি ও তাদের নেত্রী অং সান সু চির ওপর চাপ বৃদ্ধি করবে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সামরিক বাহিনীর সহিংস অভিযানের ফলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এই চাপ দেবে তারা। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইনকে উদ্ধৃত করে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য আসছে।

২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তাচৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ। বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বাস করা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। মিয়ানমারে ফিরলে আবার নিপীড়নের শিকার হতে পারেন- এমন শঙ্কায় রয়েছেন এসব রোহিঙ্গা।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পের একটি হলো কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প। চলতি মাসের শেষের দিকে মিয়ানমারের দক্ষিণ-পূর্বের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের এ ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ জাতিসংঘে তুলে ধরবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যারিস পেইন।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আপনি যখন এই নারীদের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন দেখবেন তারা তাদের মেয়েদের জন্য ভীত। কারণ তারা শিবিরে পৌঁছানোর আগে সবচেয়ে অস্বাভাবিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন। তখন সত্যিই এটি আপনার কাজের গুরুত্বকে বাড়িয়ে তুলবে। এ জন্য কাজের গুরুত্ব বেড়েছে, যার মাধ্যমে সমাধান হবে। যার ফলে তারা তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদে বিশেষ করে টেকসই উপায়ে ফিরতে সমর্থ হবে।’

মিয়ানমারের রাখাইনে ‘নৃশংসভাবে ও পদ্ধতিগতভাবে’ হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে হত্যা, নারী ও শিশুকে ধর্ষণ ও তাদের গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এর ফলে সৃষ্ট সংকটের ‘সামষ্টিক অচলাবস্থার’ জন্য গত মে মাসে দেশটির নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিনিধিদল।

২০১৭ সালের আগস্টে সংকট শুরুর পর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে সহায়তার জন্য ৭ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তা প্রস্তাব দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জন্য বরাদ্দ তহবিল বাতিল করে তারা।

ম্যারিস পেইন বলেন, যুদ্ধবিরোধী কাজে সীমাবদ্ধ করতে তহবিল সীমিত করা হয়েছিল। তবে মিয়ানমান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার মতামত মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নেতারা শোনার পর এটা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। দেশটির নিরাপত্তা খাতে অস্ট্রেলিয়ার অর্থ সহায়তার পরিমাণ ৪ কোটি মার্কিন ডলার, যা ব্যয় হবে দুর্যোগ মোকাবিলা ও মানবিক কাজে।

তিনি আরো বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা দেশটিতে ফিরে যেতে চায়, বাংলাদেশের উদ্দেশ্য হবে তাদের নিরাপদে মিয়ারমারে ফেরত পাঠানো। তবে অবশ্যই শর্ত থাকবে, সেটা হতে অবশ্যই নিরাপদ প্রত্যাবাসন, স্বেচ্ছায় ও টেকসই পদ্ধতিতে।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ও মন্ত্রী পেইন চলতি মাসের শেষের দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় যোগ দেবেন। তখন অন্য নেতাদের মানবিক সংকট নিয়ে আওয়াজ তুলে সুযোগ দেবেন।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সুসানে লেজিনা বলেন, ‘কক্সবাজার শরণার্থী ক্যাম্পে আটকা পড়া পরিবারকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে অস্ট্রেলিয়া।

 

"