যাজকের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মামলার সিদ্ধান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারে ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সেনা নিপীড়নের ব্যাপারে অভিযোগ করায় হাকালাম স্যামসন নামে এক যাজকের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত জুলাইয়ে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতে এই অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে ‘মিনিস্টিরিয়াল টু অ্যাডভ্যান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ নামে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন মিয়ানমারের কাচিন ব্যাপিস্ট কনভেনশনের যাজক হাকালাম স্যামসন। গত জুলাইয়ে হোয়াইট হাউসের ওই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে মিয়ানমারে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন তিনি। এ কারণে দেশটির সেনাবাহিনী হাকালাম স্যামসনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই অনুষ্ঠানে মিয়ানমার ছাড়াও আরো কয়েকটি দেশে ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মানহানি মামলার বিষয়টি বিশ্বব্যাপী প্রচারের উদ্দেশে তখন সম্প্রচার করেছিল হোয়াইট হাউস। আশা করা হচ্ছে, ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই মামলা নিয়ে আদালত এগোবে কি-না তার সিদ্ধান্ত নেবে। মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপ করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান যাজক হাকালাম স্যামসন। তিনি বলেন, ‘সেখানে খ্রিস্টানরা মিয়ানমান সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।’

 

 

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মর্গান ওর্টাগাস গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বক্তব্য দেওয়ার জন্য সম্মানীয় স্যামসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে মামলা ও গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত গভীর সমস্যার সৃষ্টি করবে। যুক্তরাষ্ট্র সবার বাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং মৌলিক স্বাধীনতাগুলো ও মানবাধিকারের অপব্যবহার বা লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতার জন্যও।’

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নৃশংসতা এবং এসব ঘটনায় সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে মানহানি আইন ব্যবহারেরও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

ওর্টাগাস বলেন, ‘স্যামসনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ তার মত প্রকাশকে সীমিত করার চেষ্টা করে এবং এতে করে সম্ভবত হাজার হাজার অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের পক্ষে তার দায়িত্বশীল কাজ ব্যাহত করতে পারে।’ মার্কিন সরকার এই বিবৃতি প্রকাশের কয়েক সপ্তাহ আগেও দেশটির শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর বর্ধিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেখানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা রয়েছে। এ কারণেই দেশটির সেনা প্রধান ও অন্য তিন শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আইনসম্মত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। এদিকে সেখানে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে দাবি করেছে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিনিধিরা।

 

"