যেভাবে ইমরানের পিঠে ছুরি বসালেন মোদি

প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদ এবং নয়াদিল্লির সরকারি কর্মকর্তারা পাকিস্তান এবং ভারতের দুই প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আয়োজন নিয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলেন। পর্দার আড়ালের এই আলোচনায় আগামী মাসে নিউইয়র্কে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক আয়োজনের অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদী হয়েছিলেন তারা।

বিচক্ষণ এই কূটনৈতিক তৎপরতায় শুধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে ইমরান-মোদির বৈঠকের লক্ষ্য ছিল না, বরং দুই দেশের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা সংলাপ পুনরায় শুরু করার জন্য ভিত তৈরি করাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

গত মে মাসের নির্বাচনে ভূমিধস জয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর উভয় দেশই ব্যাক-চ্যানেলে এই আলোচনা শুরু করে। ভারত এবং পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে পাক দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংলাপ পুনরায় শুরুর এই প্রক্রিয়া গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে; সেজন্য গণমাধ্যম এড়িয়ে মোদি-ইমরানের বৈঠক আয়োজন নিয়ে চুপিসারে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।

ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার অজয় বিসারা ভারতের এবং পাক পররাষ্ট্র সচিব সোহাইল মেহমুদ পাকিস্তানি পক্ষের নেতৃত্ব দেন। গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর অজয় বিসারাকে ইসলামাবাদ থেকে বহিষ্কার করে পাকিস্তান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ব্যাক-চ্যানেলের ফলপ্রসূ আলোচনার কারণে ভারতের নির্বাচনের পরপরই ইমরান খান এবং নরেন্দ্র মোদির মধ্যে চিঠির আদান-প্রদান হয়।

পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা বলেছেন, সবকিছুই সতর্কতার সঙ্গে নিপুণভাবে সাজানো হয়েছিল... এর মধ্যে ছিল প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট থেকে মোদির সঙ্গে তার টেলিফোনে আলোচনাও।

এমনকি গত জুনে বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনে ইমরান খান এবং মোদি অংশ নিয়েছিলেন। সেখানেও সম্মেলনের ফাঁকে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ব্যাপারে উভয় দেশ ঐক্যমতে পৌঁছেছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিক এই বৈঠক হলে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হতে পারে সেজন্য দুই দেশের কর্মকর্তারা কৌশলে অপরিকল্পিত ও অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতের পরিকল্পনা সাজান।

কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাংহাই সম্মেলনে দুই প্রধানমন্ত্রী অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাতে করমর্দন ও কুশল বিনিময় করেন। দুই দেশই মোদি-ইমরানের অনানুষ্ঠানিক এই মিথষ্ক্রিয়াকে অচলাবস্থার উন্নতি হিসেবে চিহ্নিত করে।

তবে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, শুধু করমর্দনের মাঝে সীমিত ছিল না দুই প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎ। কূটনৈতিক একটি সূত্র বলছে, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলন কক্ষে যখন ইমরান খান প্রবেশ করেন, তখন পাক প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দাঁড়িয়ে যান নরেন্দ্র মোদি। যদিও ওই সম্মেলন কক্ষে অন্য দেশের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

"