জিব্রাল্টারে আটক ট্যাংকার ছেড়ে না দিলে পাল্টা ব্যবস্থা : ইরান

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জিব্রাল্টারে আটক ইরানি তেলবাহী সুপার ট্যাংকারটিকে শিগগিরই ছেড়ে না দিলে ফের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান।

এটা খুবই বিপজ্জনক খেলা, এর প্রতিক্রিয়াও আছে, শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে এমনটাই বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসাভি।

পারস্য উপসাগরে বুধবার তিনটি ইরানি নৌকা একটি ব্রিটিশ তেলবাহী ট্যাংকারকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলÑ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এমন দাবির মধ্যেই তেহরান তাদের জব্দ ট্যাংকার ছেড়ে দেওয়ার এ আহ্বান জানাল, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইরানি ট্যাংকার আটকের পাল্টায় পারস্য উপসাগরে এ ‘হয়রানির’ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অনুমান পর্যবেক্ষকদের। ব্রিটিশ রাজকীয় যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস মন্ট্রোসের তাড়া খেয়ে পরে ওই ইরানি বোটগুলো পিছু হটে।

গত সপ্তাহে জিব্রাল্টার উপকূলে ইরানি সুপার-ট্যাংকার গ্রেস ১ ও এর সব কার্গো জব্দ করে ব্রিটিশ রাজকীয় মেরিন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওই ট্যাংকারটি ইরান থেকে সিরিয়ায় অশোধিত তেল নিয়ে যাচ্ছে সন্দেহে এটিকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

এ ঘটনার জন্য ব্রিটেনকে ‘পরিণতি’ ভোগ করতে হতে পারে বলে বুধবার সকালেই হুশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করে দেশটির ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ তৈরির চেষ্টায় তাদের তেল রফতানি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওয়াশিংটনের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্র রাষ্ট্রগুলোর উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠে।

এসব নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ২০১৫ সালের চুক্তিতে বেঁধে দেওয়া পারমাণবিক তৎপরতার সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করে ইরান।

মে ও জুনে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় বেশ কয়েকটি তেল ট্যাংকারে হামলা হয়। এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান তা অস্বীকার করে আসছে।

ইরান গত মাসে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিতও করে। এর জবাবে ইরানে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েও শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত থেকে সরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

সর্বশেষ হরমুজ প্রণালি ও ইয়েমেন উপকূলের বাব আল মানডাব প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সামরিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেয় ওয়াশিংটন।

 

"