অমর্ত্য সেনের অবদান নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিজেপি

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উগ্র হিন্দুত্ববাদ নিয়ে মন্তব্য করে বিজেপির কটাক্ষের মুখে পড়েছেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন। মানুষকে প্রহার করার জন্য জয় শ্রীরাম স্লোগান ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দেশের প্রতি তার (অমর্ত্য সেন) কী অবদান আছে? লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাফল্যের পর জয় শ্রীরাম স্লোগান নিয়ে বিতর্ক থামছে না। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই স্লোগানের সামনে পড়তে হয়েছে। কোথাও এই স্লোগান তুলে আক্রমণ করা হয়েছে সংখ্যালঘুদের। কোথাও স্লোগান দেওয়ার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের।

এই বিতর্কের বিষয়ে বলেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনেও। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে তিনি নাম না করে দেশের ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করে বলেন, কাউকে একটা বুলি বলতে বলা হচ্ছে। সেটা তিনি না বললে তার মাথায় লাঠি মারা হচ্ছে। আমরা যদি এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছে থাকি, সেটা চিন্তার। জয় শ্রীরাম স্লোগান ব্যবহার করা হচ্ছে মানুষকে প্রহার করার জন্য। এর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নেই, এটা মনে করা যাবে না।

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ যোগ করেন কলকাতায় এখন বড় করে রামনবমী পালন করা হচ্ছে শুনছি। আগে এমন হতে শুনিনি বাংলায় ইদানীং এসব আমদানি হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে এর যোগ ছিল না।

অমর্ত্য সেনের এই মন্তব্যে হইচই পড়ে যায়। তিনি বরাবরই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার কাঠামো রক্ষা করার ব্যাপারে বলেছেন। তাই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনো কালেই ভালো ছিল না। জয় শ্রীরাম বিতর্কে সেই তিক্ততা ফের প্রকাশ্যে এসেছে। সারা বিশ্বের বাঙালির গর্ব এই প্রবীণ মানুষটিকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি, সংসদ সদস্য দিলীপ ঘোষ। বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করতে গিয়ে অমর্ত্য সেনের কথা টেনে তিনি বলেন, ‘আমাদের একজন নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। বাঙালি হিসেবে আমরা গর্বিত। কিন্তু তিনি দেশকে কী দিয়েছেন, সেটা কেউ বোঝেন না। তিনি নিজে বোঝেন কিনা সেটাও সন্দেহ।’

 

"