অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের শুনানি ফেব্রুয়ারিতে

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে বহিঃসমর্পণ করা হবে কি-না, সে বিষয়ক পূর্ণাঙ্গ শুনানি আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার লন্ডনের একটি আদালতের বিচারক এমা আরবাথনট আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে শুনানি শুরুর দিন ঠিক করে দেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

৪৭ বছর বয়সি অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মার্কিন কৌঁসুলিরা গুপ্তচর আইন লঙ্ঘন ও সরকারি কম্পিউটারে আড়িপাতাসহ ১৮টি অভিযোগ এনেছে। দোষী প্রমাণিত হলে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতাকে কয়েক দশক কারাগারে কাটাতে হতে পারে।

গত শুক্রবার লন্ডনের একটি কারাগার থেকে ভিডিওলিঙ্কের মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দেন অ্যাসাঞ্জ। তার পরনে ছিল ধূসর টি-শার্ট; চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার গণমাধ্যমকে ভুলপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে, ওয়েস্টমিনস্টার আদালতে অভিযোগ অ্যাসাঞ্জের।

মার্কিন সরকারের প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী বেন ব্রেন্ডন এ দিন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের পাসওয়ার্ড ভেঙে মূল্যবান তথ্যে হানা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের সার-সংক্ষেপ পড়ে শোনান। আমি কোনো কিছুই হ্যাক করিনি, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন দুনিয়াজুড়ে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ খ্যাত অ্যাসাঞ্জ।

২০১০ সালে তার প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ কূটনৈতিক ও সামরিক নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল। এভাবে তথ্য উন্মোচিত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন দেশে কাজ করা মার্কিন কর্মকর্তাদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

তবে অ্যাসাঞ্জ সমর্থকদের মতে, উইকিলিকস ওই গোপন নথিগুলো প্রকাশ করে আধুনিক রাষ্ট্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বরূপ উন্মোচিত করেছে। এ ফাঁসের ঘটনাকে মতপ্রকাশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবেও চিহ্নিত করছে তারা।

মার্কিন কূটনীতিক ও সামরিক নথি ফাঁসের পরপরই অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সুইডেনে ধর্ষণ মামলা হয়। ওই মামলায় বহিঃসমর্পণ এড়াতে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা ২০১২ সালে জামিনের শর্ত অগ্রাহ্য করে লন্ডনের একুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। এরপর টানা সাত বছর ওই দূতাবাসেই অবস্থান করেছিলেন তিনি।

একুয়েডরের মার্কিনঘনিষ্ঠ সরকার চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের দূতাবাস থেকে অ্যাসাঞ্জকে বের করে দিয়ে যুক্তরাজ্যের হাতে তুলে দিলে জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিচার শুরু হয়।

 

"