ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় ট্রাম্প-আবের ফোনালাপ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওমান উপসাগরে দুই তেলবাহী ট্যাঙ্কারের বিস্ফোরণের ঘটনায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাপানি নেতার ইরান সফরের পর গত বুধবার দুই নেতার এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

এদিকে ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানকে দায়ী করার কয়েক মিনিট আগে গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দেশ শিগগিরই ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসবে। তবে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ি ঘোষণা দেন, তার বার্তা পাওয়ার জন্য ট্রাম্প উপযুক্ত বা যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নন।

এ দিকে ওমান উপসাগরে তেলবাহী দুই ট্যাঙ্কারের বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে ভিডিও প্রমাণ উপস্থাপন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানি নৌবাহিনীর সদস্যরা জাপানের মালিকানাধীন কোকুকা কারেজিয়াস নামক ট্যাঙ্কারর থেকে অবিস্ফোরিত মাইন সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হামলাস্থল থেকে আলামত সরানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই এই কাজ করেছে ইরান।

গত বৃহস্পতিবার সকালে ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। ট্যাঙ্কার দুটির একটি মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার এবং অপরটি পানামার পতাকাবাহী কোকুকা কারেজিয়াস। ফ্রন্ট অ্যালটেয়ার নরওয়ের মালিকানাধীন আর কোকুকা জাপানের মালিকানাধীন। বিস্ফোরণের পর দুই ট্যাঙ্কারর থেকে ৪৪ জন ক্রুকে উদ্ধার করে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিস্ফোরণের কারণ জানা না গেলেও যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য ইরানকে দায়ী করছে।

ঘটনার পর চারজন মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন তাদের কাছে ওই হামলার ছবি আছে। ওই কর্মকর্তাদের একজন জানান, ভিডিওটি মার্কিন সামরিক বিমান থেকে ধারণ করা। সেখানে দেখা যায়, একটি ছোট নৌকা জাপানি ট্যাঙ্কারের পাশে এসে দাঁড়ায়। একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ট্যাঙ্কার থেকে কিছু সরিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই বস্তুটি অবিস্ফোরিত মাইন। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, মার্কিন ডেস্ট্রয়ার জাহাজ ও একটি ড্রোন থাকার পরও সেখানে নৌকাটি অবস্থান করে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলার প্রমাণ মুছে ফেলতেই সেখানে গিয়েছিল সেটি।

আরেকজন কর্মকর্তা সিএনএনের কাছে দাবি করেন, ঘটনার সময় সেখানে বেশকটি ইরানি ছোট নৌকা প্রবেশ করেছিল। এক বিবৃতিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কিংবা এর মিশনের ওপর কোনো রকম হস্তক্ষেপ করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইউএসএস বেইনব্রিজ কোকুকা কারেজিয়াসের কর্মীদের সহায়তা করছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট ট্যাঙ্কারর ওনার্স বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা বলে সন্দেহ করছে তারা। জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জোনাথান কোহেন বলেন, এটা এই অঞ্চলে ইরানের সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার আরেকটি উদাহরণ। তবে ইরানি মিশন এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। মিশনের মুখপাত্র আলিরেজা মিরইউসেফি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছে।

"