বহিঃসমর্পণ বিল পাস ‘স্থগিত রাখতে পারে’ হংকং

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিচারের জন্য বাসিন্দাদের চীনের মূল ভূখ-ে পাঠানোর সুযোগ রেখে প্রস্তাবিত বহিঃসমর্পণ বিলটি ‘আপাতত তুলে রাখা হচ্ছে’ বলে ধারণা দিয়েছে হংকংয়ের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। গত সপ্তাহে লাখো মানুষের বিক্ষোভ ও সহিংস প্রতিবাদের পর গত শুক্রবার হংকংয়ের বেইজিংপন্থি বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও শহরটির শীর্ষ নির্বাহী ক্যারি লামের এক উপদেষ্টা বিলটি নিয়ে আইন পরিষদে আলোচনা ‘কিছু সময়ের জন্য’ স্থগিত রাখার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন।

বেইজিংপন্থিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় আইন পরিষদে এটি সহজেই পাস হবে বলে অনুমান করা হচ্ছিল। বিলটির আলোচনা ও ভোটাভুটি স্থগিত বিষয়ে গতকাল শনিবার লাম সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারেন বলে হংকংয়ের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রস্তাবিত ওই বহিঃসমর্পন বিল নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের পাশাপাশি মূল ভূখ- চীন কিংবা বিদেশের নাগরিকÑ যারা হংকংয়ে বসবাস করছেন অথবা যাওয়া-আসা করেন, তারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিলে তাইওয়ান, ম্যাকাউ বা চীনের মূল ভূখ-ে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হংকংয়ের বাসিন্দাদের আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সেসব স্থানে বহিঃসমর্পণের সুযোগ রাখা হয়েছিল। একে ব্যবহার করে চীন হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি রাজনীতিকদের ওপর দমনপীড়ন চালাতে পারে বলে আশঙ্কা সমালোচকদের।

বেইজিংপন্থিদের মতে, বহিঃসমর্পণের সুযোগ না থাকায় হংকং চীনের অন্য অংশের অপরাধীদের স্বর্গে পরিণত হয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন না হয়, সেজন্য প্রতিটি মামলা ধরে ধরে হংকংয়ের আদালতই বহিঃসমর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে বিলে এ বিধান যুক্ত আছে বলেও জানিয়েছে তারা। বিরোধীদের আশঙ্কা, বিলটি পাস হলে হংকংয়ের বেইজিংবিরোধী হিসেবে পরিচিতরা কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রণাধীন চীনের বিচারব্যবস্থার জালে আটকা পড়বেন। গত রোববার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য, শিক্ষকসহ লাখো বাসিন্দা বিলটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হংকংয়ে বিক্ষোভ দেখায়। গত মঙ্গলবার আইন পরিষদের বাইরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষেও জড়ায়। বিক্ষোভকারীদের সরাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুড়তে হয়।

লাম সেই সময় বিলটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়তা দেখালেও পরে জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলে পিছু হটার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানিয়েছে হংকংয়ের সংবাদমাধ্যম আইকেবল, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও সিং টাও।

বিলটি স্থগিত করা নিয়ে লাম গতকাল শনিবার স্থানীয় সময় বিকালে সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। এ বিষয়ে হংকংয়ের শীর্ষ নির্বাহীর কার্যালয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। গত বুধবারের পর থেকে লামও জনসমক্ষে আসেননি, কোনো মন্তব্যও করেননি।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের থেকে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর হংকংয়ের ইতিহাসে গত সপ্তাহের ওই প্রতিবাদই সবচেয়ে বড় ছিল বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় যুক্তরাজ্য শহরটির স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা অটুট রাখার প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিল। হংকংয়ের কারণেই চীনকে ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থাপনার’ নীতিতে চলতে হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যকে প্রতিশ্রুতি দিলেও নিজেদের ভূখ-ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই বেইজিং হংকংয়ের গণতান্ত্রিক সংস্কারে বাধা, স্থানীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও বিরোধীদের ওপর তুমুল দমন-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সমালোচকদের। চীন শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

"