ওমান উপসাগরে বিস্ফোরণে ইরান দায়ী : যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ওমান উপসাগরে দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের জন্য ইরানকে দায়ী করেছেন। গত বৃহস্পতিবার কোকুয়া কারেজেস ও ফ্রন্ট আলটেয়ার নামের নৌযান দুটিতে ‘বিস্ফোরণের পর’ আগুন ধরে গেলে ইরানি উদ্ধারকারী দল ট্যাঙ্কার দুটির ৪৪ ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলসীমায় চারটি ট্যাঙ্কারে ‘অন্তর্ঘাতমূলক হামলার’ এক মাস পর এ ঘটনা ঘটল। ওই ঘটনার জন্যও ওয়াশিংটন তেহরানকে দায় দিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের অবস্থানের সপক্ষে একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ভিডিওতে বিস্ফোরণের আট ঘণ্টা পর ‘ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ডের সদস্যদের একটি ট্যাঙ্কার থেকে অবিস্ফোরিত মাইন সরাতে দেখা যাচ্ছে’ বলেও দাবি তাদের।

‘অবিস্ফোরিত মাইনসহ’ ওই জাপানি নৌযানটির আগের ছবিও প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। তেহরানই ট্যাঙ্কারে হামলা চালানোর পর তাদের অবিস্ফোরিত মাইনগুলো খুলে নিয়েছে বলে ছবিও ও ভিডিওতে ইঙ্গিত করেছেন তারা। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অপর ট্যাঙ্কারটি নরওয়ের। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের মতো বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন বলছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানই এ হামলার জন্য দায়ী। যেসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে, হামলায় যে ধরনের বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন, সম্প্রতি বিভিন্ন নৌযানে একই রকম হামলার ধরন এবং ওই অঞ্চলে এ ধরনের সংবেদনশীল হামলার জন্য যে সম্পদ ও দক্ষতা প্রয়োজন তাতে পারদর্শী কোনো ছদ্মবেশী গোষ্ঠী ক্রিয়াশীল না থাকা এসব তথ্যের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে, ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন মাইক পম্পেও।

জাহাজে হামলার অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে নাকচ করল ইরান : ওমান সাগরে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়ে মার্কিন সরকারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। জাতিসংঘে ইরানি মিশন গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে মার্কিন অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও নির্লজ্জ অভিযোগ বলে মন্তব্য করে। মার্কিন অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নিন্দাও জানিয়েছে ইরানি মিশন।

এর আগে ওমান সাগরে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইএসএস ম্যাশন থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে জানানো হয়েছে যে, তেলবাহী জাহাজ কোকুকা কারেজাস ও ফ্রন্ট আলতেয়ারে টর্পেডো হামলা চালিয়েছে ইরান। পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পম্পেও জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য, ব্যবহৃত অস্ত্র, অভিযান বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, অন্য জাহাজের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এসবের ওপর ভিত্তি করে আমাদের এই মূল্যায়ন।

জাতিসংঘে ইরানি মিশন আরো বলেছে, তথ্য বিকৃতি ও ভুল তথ্য প্রচার অথবা নির্লজ্জ দোষারোপ কোনোটাই বাস্তবতাকে বদলে দিতে পারবে না। আমেরিকা ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের অবশ্যই যুদ্ধংদেহী মনোভাব পরিবর্তন করতে হবে এবং মিথ্যা অভিযোগ ও দুরঅভিসন্ধিমূলক ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে দ্বিমত করার কোনো কারণ নেই। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, নিজের বন্দরগুলোর নিরাপত্তার জন্য রিয়াদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তবে হামলাকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে যখন ইরানে ঐতিহাসিক সফরে ছিলন তখন এ হামলা হয়।

 

"