থাইল্যান্ডের দ্বীপ থেকে ৬৫ রোহিঙ্গা উদ্ধার

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি দ্বীপ থেকে ৬৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দেশটির সাতুন প্রদেশের তারুতাও ন্যাশনাল মেরিন পার্কের রায়ি দ্বীপ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২৮ জন পুরুষ, ৩১ জন নারী ও পাঁচ শিশু রয়েছে। পার্কের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বহনকারী মাছ ধরা নৌকাটি যান্ত্রিক গোলযোগে পড়ার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে তারা কোন দেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছে তা নিশ্চিত হতে পারেননি থাই কর্মকর্তারা।

দীর্ঘদিন রাখাইন রাজ্যে বসবাস করলেও রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে মিয়ানমার। ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরালো করলে জনগোষ্ঠীটির সাত লাখেরও বেশি সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া জনগোষ্ঠীটির অনেক সদস্য নিরাপত্তার আশায় পাচারকারীদের সহায়তায় সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পৌঁছানোর চেষ্টা করে থাকে।

তারুতাও ন্যাশনাল মেরিন পার্কের প্রধান কানজানাপান কামহায়েং জানান, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের কয়েক নাগরিক পার্কের কর্মকর্তাদের নৌকার গোলযোগের কথা জানানোর পর মঙ্গলবার এসব রোহিঙ্গা উদ্ধার করা হয়। কানজানাপান জানান, পাথুরে উপকূলে ভাঙা অবস্থায় পাওয়া নৌকাটি পরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ৬৫ জনকে বহনের কথা জানা যায়। নৌকাটি পরিচালনায় থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের কয়েক নাগরিক যুক্ত ছিল বলে রোহিঙ্গারা জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের থাইল্যান্ডের মূল ভূখন্ডে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সাতুন প্রদেশের এক সরকারি কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, এসব রোহিঙ্গারা পাচারের শিকার নাকি অবৈধ অভিবাসী তা খতিয়ে দেখতে প্রত্যেককেই তদন্তের আওতায় আনা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর লাখো রোহিঙ্গাকে সাগরপথে বিভিন্ন দেশের উদ্দেশে পালাতে দেখা গেছে। অনেকে আবার তখন মানব পাচারকারীদের কবলেও পড়েছে। ২০১৫ সালে সাগরপথে দলবদ্ধভাবে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা বেড়ে যায়। সে সময় আন্দামান সাগর হয়ে ২৫ হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পালিয়ে গিয়েছিল।

 

"