মুর্তাজার মৃত্যুদন্ড ঘোষণায় সমালোচনার ঝড়

আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু সৌদি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সৌদি কিশোর মুর্তাজা কুরেইরিসের মৃত্যুদ-কে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ১০ বছর বয়সে মানবাধিকারের দাবিতে সাইকেল নিয়ে মিছিল করার দায়ে তাকে ফাঁসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াদ। সৌদি রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পাশাপাশি তাদের মিত্র শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও টুইটার ব্যবহারকারীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। শিক্ষক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বুদ্ধিজীবীসহ বহু মানুষ এই প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন। মুর্তাজার মৃত্যুদ-ের সিদ্ধান্ত ইসলামী বিধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ।

আরবের দুর্নীতিপ্রবণ ও জনবিরোধী শাসকদের বিরুদ্ধে যখন বসন্তের ঢেউ খেলে গিয়েছিল, সে সময় সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল শিশু মুর্তাজা কুরেইরিস। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে নিরস্ত্র অবস্থায় সাইকেল নিয়ে অহিংস প্রতিবাদে নেমেছিল সে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সম্প্রতি তাদের এক বিশেষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে সক্ষম হয়, সুদীর্ঘ নিপীড়ন ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তার মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। সবশেষে শান্তিপূর্ণ সরকার বিরোধিতার শাস্তি হিসেবে ওই শিশুর মৃত্যুদ-ের সাজা ঘোষিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সিএনএন-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনটির সত্যতা যাচাই করেছে। লেখক-সাংবাদিক ইয়ান ফ্রেজার এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘সৌদি তরুণ এমন ১০ বছর বয়সে গণতন্ত্রের দাবিতে প্রতিবাদে নামার শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- পেতে যাচ্ছে, এরপর তার মরদেহ সম্ভবত জনসম্মুখে ঝুলিয়ে রাখা হবে’।

সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এ প্রচারিত সামাজিক মাধ্যমের এক ভিডিওতে দেখা যায়, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের এক ধুলোমলিন রাস্তায় বাইসাইকেলে জড়ো হয়েছে একদল বালক। সাইকেলের পেডেলে পা রেখে প্রায় ৩০ বালকের ওই দলটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছিল ১০ বছর বয়সি মুর্তাজা কুরেইরিস। মনে হচ্ছিল কোনো প্রতিযোগিতা করার জন্য জড়ো হয়েছে বালকের দল। সৌদি আরবের দাবি, তারা সেসময় সরকারবিরোধী সেøাগান দিচ্ছিল। ঘটনার দায়ে মুর্তাজাকে আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। অধিকারভিত্তিক ওয়েবসাইট অপ্রেশন ডট ওআরজি সাইকেল আন্দোলনের সেই ভিডিও টুইট করে লিখেছে, মানবাধিকার ও বিশুদ্ধ পানির দাবিতে সাইকেল নিয়ে আন্দোলনের অপরাধে ১০ বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যুদ- কার্যকর করে তার মরদেহ জনসম্মুখে ঝুলিয়ে রাখতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি মিত্র সৌদি আরব এবং কুশনারের বন্ধু মোহাম্মদ বিন সালমান।

উল্লেখ্য, ৯/১১-এর হামলার ঘটনায় সৌদি আরব আর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে খানিকটা সংকট সৃষ্টি হলেও বরাবরই দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে এসে সেই সম্পর্ক নাটকীয় পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের অভিন্ন শত্রু ইরানকে মোকাবিলায়ই এর একমাত্র কারণ নয়। বরং ট্রাম্পের ইসরায়েলবান্ধব জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের সম্পর্কও বেশ গভীর। যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকারকর্মী ফ্রান্সিস মিলেট এক টুইটে বলেন, ট্রাম্পের ‘বন্ধু’ সৌদি এখন মুর্তাজা কুরেইরিসকে মৃত্যুদ- দিচ্ছে, কারণ সে সংখ্যালঘু শিয়াদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বন্ধুদের নিয়ে এক সাইকেল মিছিলে আওয়াজ তুলেছিল। আর এই কথিত অপরাধ সংঘটনের সময় তার বয়স ছিল ১০ বছর।

 

"