জঙ্গলমহলে সিপিএমরাই এখন তৃণমূল

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

লালমাটির একটা নিজস্ব রুক্ষতা আছে। রয়েছে নিজস্ব প্রতিবাদ। খুব সহজে মাথা নোয়াতে চায় না সেখানকার মানুষ। একসময় ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসানের শঙ্খও বাজিয়েছিলেন জঙ্গলমহলের মানুষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে উঠেছিলেন জঙ্গলমহলের মা। কিন্তু মাত্র ১০ বছরেরও কম সময়ে এমন কী হলো যার কারণে পঞ্চায়েতে তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে পদ্ম ফুটতে শুরু করছে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহলে?

উত্তর খুঁজতে গেলে হোঁচট খেতে হয়। কারণ রাজ্যের অন্যান্য জায়গার তুলনায় জঙ্গলমহলে উন্নয়নের ছবিটা অনেকটাই পরিষ্কার। ৩৪ বছরে জঙ্গলের যে রাস্তাগুলোয় মোরাম পড়ত মাঝে সাঝে সেই রাস্তার অনেকগুলোই আজ পাকা। পানীর সমস্যার সঙ্গে লড়াই করা ঝাড় গ্রামের মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলের গ্রামগুলোতে বৈদ্যুতিক টিউবওয়েল বসানো হয়েছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসে কর্মসংস্থান দিতে পেরেছে জঙ্গলমহলের মানুষকে। একসময় তাস খেলে, সিজিনাল টুকটাক কাজ করে দিন কাটানো জঙ্গলমহলের যুবকদের একটা বড় অংশ সিভিক পুলিশে, হোমগার্ড, এনভিএফে কাজ করছে।

মোটামুটিভাবে বলতে গেলে খাদ্য, পানি, কর্মসংস্থান ও শিক্ষার যে সমস্যা তার সঙ্গে লড়াইটা যথাযথভাবেই শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তারপরও শেষ পঞ্চায়েতে ঝাড় গ্রাম পুরুলিয়াতে ভালো ফল করতে পারেনি তৃণমূল।

ঝাড় গ্রামের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে উঠে এলো অবাক করা তথ্য। একসময় সিপিএমের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তৃণমূলকে জিতিয়ে এনেছিলেন সাধারণ মানুষ। অথচ সেইসব সিপিএম নেতারাই আজ জঙ্গলমহলে তৃণমূলের সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। পুরোনো আদি তৃণমূলকর্মীদের একটা বড় অংশ তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই রাজনীতি ছেড়েছেন। অনেকে আবার সামনে না হলেও ভেতরে ভেতরে সমর্থন করছেন বিজেপিকে। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও তৃণমূলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন কাঁকো অঞ্চলের মোতিলাল ঢুডু। তৃণমূল করতে গিয়ে ছেলেকেও হারিয়েছেন। যারা ছেলের খুনে সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ তারাই আজ শাসক দল ঘনিষ্ঠ। মোতিলাল এখন বিজেপিতে।

ক্ষোভ ধরা পড়ল ঝাড় গ্রাম জেলার বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শাসক দলের এমএলএ খগেন্দ্রনাথ হেমব্রমের কথায়। পুরোনো তৃণমূলকর্মীরা দল ছাড়ছে কেন? এ বিষয়ে খগেন্দ্রনাথকে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, ক্ষোভের কারণে খারাপ লাগা থেকেই দল ছাড়ছে অনেকে।

জঙ্গলমহলের একদা সিপিএম আজ তৃণমূলের সম্পদ এই

অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে খগেনন্দ্রনাথ আরো বলেন, হ্যাঁ এ রকমটা হচ্ছে।

 

"